২০২২ সালের ২ ডিসেম্বর ভূপতিনগর থানার নাড়ুয়াবিলা গ্রামে রাজকুমার মান্নার বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ হয়। সেই ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি রাজকুমার মান্না এবং দলের অন্য দুই কর্মীর মৃত্যু হয়। অভিযোগ, বোমা তৈরি করার সময় বিস্ফোরণ হয়। তাতে তিনজনের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়। ওই ঘটনায় তদন্তভার পায় এনআইএ। ওই মামলায় এনআইএ মোট চারজনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করে। অভিযুক্তরা হলেন, মানব পড়ুয়া, নবকুমার পন্ডা, মনোব্রত জানা ও বলাইচরণ মাইতি। মনোব্রত তৃণমূল কংগ্রেসের নাড়ুয়াবিলা বুথ সভাপতি ছিলেন। বলাইচরণ ছিলেন অর্জুননগর অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি। ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল ভোরে এনআইএ নাড়ুয়াবিলা ও নীচনাড়ুয়া গ্রামে হানা দেয়। ওই দুই গ্রাম থেকে মনোব্রত ও বলাইচরণকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। মনোব্রতকে গ্রেপ্তারের সময় বাধার মুখে পড়ে এনআইএ। এজেন্সির গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা হয়। তাতে এনআইএর দুই অফিসার জখম হন। গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
২০২৪ সালের ১ জুন ওই মামলায় মানব পড়ুয়া ও নবকুমার পন্ডাকে নোটিস পাঠিয়েছিল এনআইএ। মানব এই মুহূর্তে জেলা পরিষদের পূর্ত ও পরিবহণ স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ এবং ভগবানপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী। নবকুমার আড়গোয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য এবং পার্টির অঞ্চল সহসভাপতি। ওই মামলায় মানব এবং নবকুমার সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। তারপর পুনরায় নোটিস পেলেন মানব। তিনি বলেন, মঙ্গলবার আমি এনআইএ নোটিস পেয়েছি। বৃহস্পতিবার ডেকে পাঠানো হয়েছে। আমি এনআইএ অফিসে যাব।
এনআইএর নোটিস প্রসঙ্গে বিজেপিকে চড়া সুরে আক্রমণ করেছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সদর দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ হয়েছে সাধারণ মানুষের। তাঁরা তৃণমূলের দিকে ঝুঁকেছেন। বিধানসভা নির্বাচনে হার নিশ্চিত জেনে বিজেপি নখ-দাঁত বের করে নেমে পড়েছে। তৃণমূল প্রার্থীকে এনআইএর নোটিস পাঠানো বিজেপির পরিকল্পিত চক্রান্ত।