• তৃণমূলের রুটি ‘ফাইন’, গলে পাঁক বিজেপির ভাঁড়
    বর্তমান | ০২ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রার্থী সটান ঢুকলেন রুটির দোকানে। গ্যাসের আকাল বলে বাড়িতে রুটি বানাচ্ছে না কেউ। তাই দোকানের সামনে কেনার লম্বা লাইন। দোকানদার প্রৌঢ় ব্যক্তি। একা হিমশিম খাচ্ছেন। বালির তৃণমূল প্রার্থী কৈলাশ মিশ্র সেঁকার জালি টেনে নিয়ে সেঁকতে শুরু করলেন। রুটি পুড়ল না। কাঁচাও থাকল না। বোঝা গেল কৈলাশের পাকা হাত। রাজনীতি যেমন করেন গেরস্থালি কাজেও দস্তুরমতো পারদর্শী। তবে ভাঁড় বানাতে কিন্তু মোটেও দক্ষ নন বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় সিং। ভাঁড় তৈরি করতে এক কুমোরের ঘরে ঢুকে বেশ নাজেহালই হলেন। সব পণ্ড হচ্ছে দেখে ভাঁড়ের মতোই তোম্বা হয়ে গেল কুমোরের মুখ। তবে উত্তর হাওড়ার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ভৈরব দত্ত লেনের ভাঁড়পট্টিতে কুমোরের চাকার সামনে বসে দিব্যি মাটির পাত্র বানিয়ে ফেললেন অন্য এক বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাই। তাঁর পারদর্শিতা দেখে তাঁর দলের লোকেরাও অবাক।

    বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে তত জমে উঠছে প্রচার। প্রার্থীরা বেরিয়ে কিছু না কিছু নয়া চমক দেওয়ার রোজই চেষ্টা করছেন। কেউ কোনো ভোটারের ঘরে ঢুকে রান্না করছেন। কেউ বাজার করছেন। কেউ সেলুনে ঢুকে ক্ষৌরকার হয়ে কামিয়ে দিচ্ছেন চুল-দাড়ি। এভাবে মানুষের মন জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন সব দলের প্রার্থী। দেখা গেল, বালি ও উত্তর হাওড়া এর ব্যতিক্রম নয়।

    কৈলাস মিশ্র জোরকদমেই করছেন প্রচার। কয়েকদিন আগে সাংসদ-অভিনেতা দেবকে সঙ্গে নিয়ে রোড শো করেছিলেন। মঙ্গলবার বালির রামনবমী তলা এলাকায় দোকানে ঢুকে সেঁকলেন রুটি। মানুষের বক্তব্য, ‘রুটি মন্দ সেঁকেননি।’ কৈলাশের দক্ষতা ও মধুর ব্যবহার নজর কাড়ছে সবার। টিএমসি প্রার্থী বলেন, ‘বালির সব মানুষের পাশে থাকতে চাই। তাঁদের চাহিদা পূরণে তৃণমূল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মানুষ আমাকে আপন করেছেন। জয় স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।’ অভিনব প্রচার ছাড়াও বালিতে আর একটি বিষয় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার বালির কংগ্রেস শিবিরে বড়োসড়ো ভাঙন ধরে। কয়েকশো কংগ্রেস কর্মী তৃণমূলে যোগ দেন। ভোটের আগে এই ঘটনায় তৃণমূল বাড়তি উৎসাহ পেয়েছে।

    অভিনব প্রচারগুলির ঝলক সোশ্যাল মিডিয়ায় এখনই ভাইরাল। ভাঁড় তৈরি করতে গিয়ে মাটির ছিটে লাগে সঞ্জয়বাবুর পরিষ্কার পোশাকে। তার উপর বিশেষ কিছু বানাতেও পারেননি বলে তিনি খানিক নিরুৎসাহ হয়েছেন। আবার জিনিস নষ্ট হওয়ায় কুমোরও খুব অসন্তুষ্ট। তবে রাজনীতি করেন বলে সঞ্জয়বাবু সপ্রতিভ। পোশাক থেকে মাটি ঝাড়তে ঝাড়তে প্রায় বক্তৃতার ঢঙে বললেন, ‘মানুষের সঙ্গে মিশে জীবনের বাস্তবতা বোঝাই আমাদের লক্ষ্য।’ 

    ভাঁড় বানাতে তাঁর মতো অদক্ষ কিন্তু নন উমেশবাবু। মাটির পাত্রের মোটামুটি একটা আকার দিতে পেরে তিনি বেশ গর্বিত। গলায় আরও আত্মবিশ্বাস এনে বললেন, ‘এই এলাকায় নিকাশি সহ একাধিক সমস্যা আছে। সর্বত্র মানুষের ক্ষোভ সামনে আসছে।’ এসব দেখার পর এলাকার বাসিন্দারা বললেন, ‘হিন্দিভাষী অধ্যুষিত এলাকাগুলির উপর বিশেষ নজর বিজেপির। এখানে বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা ভোটারদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।’
  • Link to this news (বর্তমান)