• স্টেথোস্কোপ ছেড়ে কি বুথে ভোট পরিচালনা হাসপাতাল সুপারের!
    বর্তমান | ০২ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: এবার কি ডাক্তারও করবে ভোটের ডিউটি? প্রায় তেমনই অবস্থা দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। আমতলা গ্রামীণ হাসপাতালের সুপার অর্ণব প্রামাণিকের নামে এসেছে প্রিসাইডিং অফিসারের ডিউটি। যদিও তিনি ট্রেনিং নেননি। এবং তার জেরে তাঁকে শো কজ করা হয়েছে। শো কজের উত্তরও দিয়েছেন তিনি। 

    এছাড়াও বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট, ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্ট প্রভৃতি স্বাস্থ্যকর্মীদের নামে পাঠানো হয়েছে ভোটকর্মীর ট্রেনিংয়ের চিঠি। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত চিকিৎসকমহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। জেলা স্বাস্থ্যকর্তারা এই নিয়ে যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। কারণ এভাবে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হলে জেলার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। তাই সবাইকে যাতে না নেওয়া হয়, সে কথা জানিয়ে কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক মুক্তিসাধন মাইতি। 

    আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন মানুষজনকে ভোটকর্মী হিসাবে নিযুক্ত করছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্য সরকারের কর্মচারী থেকে কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিক– এমন অনেককেই ইতিমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অনেকে ট্রেনিংও নিয়েছেন। কিন্তু যাঁরা সরাসরি চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত, এমন ব্যক্তিদের পোলিং অফিসার অথবা প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়ার মতো ঘটনা ইতিপূর্বে হয়নি বলেই মনে করা হচ্ছে। এবার তো আরও বেনজির ঘটনা ঘটেছে। একেবারে হাসপাতাল সুপারের নামেই চলে এল ভোট প্রশিক্ষণের চিঠি! তিনি যদি কয়েকদিনের জন্যও ভোটের কাজে অন্যত্র নিযুক্ত হয়ে যান, তাহলে হাসপাতাল পরিচালনার কাজ বিঘ্নিত হবে।

    বিষ্ণুপুর এলাকায় আমতলা গ্রামীণ হাসপাতালের ভালো গুরুত্ব আছে। ভোটকর্মী হিসাবে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য চিঠি পেয়েছেন সেখানে কর্মরত অনেকেই। সেই তালিকায় ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্ট থেকে কাউন্সেলারও  রয়েছেন। সিএমওএইচ বলেন, কয়েকজনকে নিতেই পারে কমিশন। কারণ নির্বাচনের জন্য লোকবল প্রয়োজন, সেটা আমরা বুঝি। কিন্তু যেভাবে ডাক্তার সহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদাধিকারী ও ব্যক্তিদের ভোট প্রশিক্ষণের চিঠি পাঠানো হয়েছে, তাতে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া একটু মুশকিলের। আশা করছি কমিশন ব্যাপারটি বুঝবে।

    এদিকে, ডায়মন্ডহারবার স্বাস্থ্যজেলায় স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে প্রশিক্ষণের চিঠি আসা শুরু হয়নি। তবে এখনো যেহেতু সময় আছে, তাই এই স্বাস্থ্যজেলার আধিকারিকরা আশঙ্কিত। তাদের চিন্তা যে এখানকার বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকেও জরুরি কাজের সঙ্গে যুক্ত অনেককে ভোটকর্মী হিসাবে নিতে পারে কমিশন।
  • Link to this news (বর্তমান)