বারাসতে প্রার্থীকে ঘিরে বিজেপির অন্দরে ফাটল স্পষ্ট, সরব প্রাক্তন জেলা সভাপতি
বর্তমান | ০২ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসত বিধানসভায় প্রার্থী ঘোষণা হতেই বিজেপির অন্দরে ফাটল যেন আরও স্পষ্ট। নির্বাচনের আগে যেখানে সংগঠন মজবুত করার কথা, সেখানে উলটে প্রার্থী নিয়েই বাড়ছে অসন্তোষ। শংকর চট্টোপাধ্যায়কে প্রার্থী করায় দলের একাংশ প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে। সেই ক্ষোভের মুখ হয়ে উঠেছেন প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা রাজ্য বিজেপির সদস্য তাপস মিত্র। তাই, প্রার্থী বদলের দাবিতে ইতিমধ্যেই রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে চিঠি দিয়েছেন তাপস। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় সংগঠনের মতামত না নিয়ে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বারাসতের ‘ভূমিপুত্র’ হিসাবে নিজেকে দাবিদার বলেও তুলে ধরেছেন তিনি। দ্রুত সিদ্ধান্ত না বদলালে বড়ো পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তাপসবাবু। ঘনিষ্ঠমহলে তিনি নির্দল প্রার্থী হওয়ারও ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
দলীয় সূত্রে খবর, প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই শহরের বিভিন্ন জায়গায় শংকরের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ে। তাপসের সমর্থনে সরব হয়েছে কর্মীদের একাংশ। গত কয়েকদিন ধরে আলাদা বৈঠকও করছেন তারা। ফলে শংকরের প্রচারে সংগঠনের একটি অংশ কার্যত নিষ্ক্রিয়— এমনটাই দাবি রাজনৈতিক মহলের। এই দ্বন্দ্ব অবশ্য নতুন নয়। ২০২১ সালে ভোট-পরবর্তী সময়ে বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তাপস। সেই সময় কর্মীদের পাশে থাকার ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৩ সালের আগস্টে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই দুই শিবিরের টানাপোড়েন সামনে আসতে শুরু করে। সেবারও প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে মতভেদ ছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও শংকরকে প্রার্থী করার বিরোধিতা করেছিলেন তাপস। সেই নির্বাচনে পরাজিত হয় বিজেপি। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটেও প্রার্থী বাছাই নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন তিনি। ফলাফল সেখানেও একই— হার। এবারের নির্বাচনে সেই পুরানো ক্ষোভই যেন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। প্রার্থী ঘোষণার পরও সংগঠনের ভিতরের অস্বস্তি কাটেনি। উলটে তা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। শংকর চট্টোপাধ্যায় অবশ্য প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। দলের অন্দরের এই অসন্তোষ তাঁর প্রচারে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই জল্পনা।
শংকর বলেন, দল আমাকে প্রার্থী করেছে, প্রচার করছি। প্রতিটি জায়গাতেই ভিড় হচ্ছে। আমি জিতে দলের বিশ্বাস ও মর্যাদা রাখব। বাকিটা দলীয় বিষয়। এ নিয়ে বিজেপি নেতা তাপস মিত্র বলেন, দলের অসময়ে শংকরবাবুকে পাওয়া যায়নি। গতবার বিধানসভায ভোটে হারার পর তিনি পালিয়ে গিয়েছিলেন। কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছে, আমি পাশে দাঁড়িয়েছি। খাতায়-কলমে তিনি বারাসতের বাসিন্দা হলেও থাকেন মধ্যমগ্রামে। ফলে আমাদের প্রার্থীও ভূমিপুত্র নন। এরপরেই তাঁর দাবি, দল পদক্ষেপ না করলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব। কীভাবে, কার মাধ্যমে, শংকরবাবু টিকিট পেয়েছেন, সেই তথ্য আমার কাছে রয়েছে। ক্রমশ প্রকাশ্যে আনব। নির্বাচনের মুখে বারাসতে বিজেপির এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার।