রাজারহাট-গোপালপুরে জিততে দক্ষিণ দমদমের ৮টি ওয়ার্ডই ভরসা তৃণমূলের
বর্তমান | ০২ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: রাজারহাট-গোপালপুরের ভোটযুদ্ধে ময়দান কাপাচ্ছে সবকটি দলই। ভোটের পাটিগণিতে এই কেন্দ্রে ঘাসফুল শিবিরের বড়ো ভরসা দক্ষিণ দমদম পুরসভার আটটি ওয়ার্ড। উত্তর শহরতলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে বিধাননগর পুরসভার ১৬ টি ও দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৮টি ওয়ার্ড। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে এই কেন্দ্রে তৃণমূল মাত্র ৭৪ ভোটে এগিয়েছিল। বিধাননগর পুর এলাকার ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র পাঁচটি ওয়ার্ডে লিড পেয়েছিল তৃণমূল। বাকি ওয়ার্ড মিলিয়ে পিছিয়ে আড়াই হাজারেরও বেশি ভোটে। অন্যদিকে দক্ষিণ দমদমের আটটি ওয়ার্ড থেকে ২ হাজার ৬০০ ভোটের লিড পেয়েছিল। তার জেরেই এই কেন্দ্র থেকে ৭৪ ভোটে এগিয়ে যান লোকসভার তৃণমূল প্রার্থী। সে ভোটে দলের মান রেখেছিল দক্ষিণ দমদম। এবারও ওই আটটি ওয়ার্ডকেই পাখির চোখ করে তৃণমূল জয়ের নীল নকশা তৈরি করছে।
ওই আটটি ওয়ার্ডের মধ্যে কেবলমাত্র ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল ১ হাজার ৪৫ ভোটে পিছিয়ে ছিল। বাকি সাতটি ওয়ার্ডে পেয়েছিল লিড। সবথেকে বেশি লিড ১৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে আসে। ৯৯৩ ভোটের লিড ছিল। দ্বিতীয় স্থানে ছিল ২৬ নম্বর ওয়ার্ড। ৯৫০ ভোটের লিড। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে এই আটটি ওয়ার্ড থেকে প্রায় ৮ হাজার ৯১০ ভোটের লিড ছিল। শক্তঘাঁটিতে এবার লিড ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগচ্ছে তৃণমূল।
সেই লক্ষ্যে মাইক্রো পর্যায়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে ভোটারদের। দোদুল্যমান অবস্থায় থাকা ভোটারদের বাড়ি ধরে ধরে তিন থেকে চারবার হাজির হচ্ছেন তৃণমূলের বাছাই করা কর্মীরা। এলাকার উন্নয়নে রাজ্য সরকার, বিধায়ক ও কাউন্সিলারদের ভূমিকার কথা তুলে ধরা হচ্ছে সেই মানুষদের কাছে। বাগজোলা খাল ও সংলগ্ন এলাকায় আগের পরিস্থিতি ও বর্তমান পরিস্থিতিও তুলে ধরছেন কর্মীরা। রাস্তা, নিকাশি, আলো ও পানীয় জলের উন্নয়ন, বলা হচ্ছে সব কিছু। তবে জায়গা ছাড়তে নারাজ বিরোধীরাও। তারা এলাকায় জল জমার সমস্যা, সিন্ডিকেট ও প্রমোটারিরাজ নিয়ে আক্রমণ শানাচ্ছে।
এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তেওয়ারি বলেন, ‘মানুষ ন্যূনতম পরিষেবা থেকে বঞ্চিত। সর্বত্র ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ। বেআইনি নির্মাণে ছেয়ে গিয়েছে এলাকা। টিএমসির অপশাসন থেকে মুক্তি পেতে মানুষ জোট বেঁধেছেন।’ সিপিএম প্রার্থী শুভজিৎ দাশগুপ্ত বলেন, ‘সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের পথে। একের পর এক স্কুল বন্ধ হচ্ছে। খাল দখল হয়ে যাচ্ছে। নাগরিক পরিষেবা মুখ থুবড়ে পড়েছে। ফি বছর ডেঙ্গুর দাপট। মানুষ বিজেপি ও তৃণমূলের ছদ্ম লড়াই ধরে ফেলেছে। দুই দলকে জবাব দিতে এবার প্রস্তুত হয়ে আছেন ভোটাররা।’ দক্ষিণ দমদমের তৃণমূল নেতা ও পুরসভার সিআইসি সঞ্জয় দাস বলেন, ‘আমরা সারাবছর মানুষের পাশে থাকি। জন্মদিন থেকে বিবাহবার্ষিকী, বড়দিন থেকে শিশুদিবস, পয়লা বৈশাখে আমরা মানুষের বাড়ি পৌঁছে যাই। মধ্যরাতে কেউ বিপদে পড়লে আমরাই দৌড়ে যাই। তাই বিরোধীদের অপপ্রচারে মানুষ কান দিচ্ছেন না। আমাদের প্রার্থী অদিতি মুন্সিকে জেতাতে মানুষ জোট বেঁধেছেন।’