বামফ্রন্ট ও আইএসএফ জটের আঁচ সিপিএমে! ঘোষিত পাঁশকুড়া পশ্চিম আসন ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে নৌশাদকে?
বর্তমান | ০২ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আইএসএফের প্রবলের চাপের মুখে পাঁশকুড়া পশ্চিম আসনটি সিপিএম তাদেরকে ছেড়ে দিচ্ছে বলে সূত্রের খবর। অথচ ওই আসনে প্রার্থী করা হয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুরের সিপিএমের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহিকে। যদিও আলিমুদ্দিনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। এই খবর ছড়াতেই জেলা পার্টির মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। এদিকে বুধবার বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু একটি বিবৃতিতে জানান, বামফ্রন্ট মোট ২৫২টি আসনে লড়াই করবে বলে ঠিক হয়েছে। সেখানে সিপিএম প্রার্থীর সংখ্যা ১৯৫।
এর পাশাপাশি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিপিআই (এমএল) লিবারেশন ৮টি ও আইএসএফ ৩০টি কেন্দ্রে সমঝোতার ভিত্তিতে লড়াই করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রসঙ্গত, লিবারেশন ১০টি আসনে ইতিমধ্যেই প্রার্থী দিয়েছে। এদিকে আইএসএফ ৩৩টি কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে বলে ঘোষণা করে দিয়েছে। ৩১টি কেন্দ্রে প্রার্থীও ঘোষণা করে দিয়েছে। তার মধ্যে পাঁশকুড়া পশ্চিম কেন্দ্রটিও রয়েছে। এর মধ্যে আবার আরএসপি মঙ্গলবার আইএসএফের দেওয়া প্রার্থী বাসন্তীতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বুধবার ফরওয়ার্ড ব্লক মধ্যমগ্রামে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। যদিও ফরওয়ার্ড ব্লক কিন্তু তাদের মধ্যমগ্রামের প্রার্থী নিতাই পালকে বামফ্রন্ট ‘মনোনীত’ বলছে না।
এদিন বিমানবাবু বিবৃতি দিয়ে আরো জানিয়েছেন, ফরওয়ার্ড ব্লক ২৩, সিপিআই ১৬, আরএসপি ১৬, আরসিপিআই ১ ও মার্ক্সবাদী ফরওয়ার্ড ব্লক ১টি আসনে লড়াই করবে। এর পাশাপাশি বামফ্রন্টের সহযোগী হিসাবে পশ্চিমবঙ্গ সোশ্যালিস্ট পার্টিকে ১টি ও ৩টি আসনে অন্যান্য গণতান্ত্রিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রার্থীদের সমর্থন করা হবে। বিমানবাবুর আহ্বান ২৯৪টি কেন্দ্রে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি সংগ্রামে তৃণমূল-বিজেপির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। কিন্তু, আইএসএফকে নিয়ে বামফ্রন্টের অন্দরে যে জট ক্রমশ জটিলতার পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে তা বলাই বাহুল্য। তবে এবার কিন্তু সেই আঁচ সরাসরি গিয়ে সিপিএমের উপরেই পড়তে চলেছে।
সূত্রের খবর, আইএসএফের চাপে পাঁশকুড়া পশ্চিমে জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহির নাম ঘোষণার পরেও তা বদলানো হচ্ছে। দিনকয়েক আগেই, ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রে তৃণমূল ফেরত আরাবুল ইসলামকে আইএসএফ প্রার্থী করায় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। আবার আইএসএফ চেয়ারম্যান নৌশাদ সিদ্দিকিও বলেছিলেন, কোনো দলের লেজুড় হয়ে থাকব না। এমন পরিস্থিতিতেই আবার প্রার্থী নিয়ে জটিলতা।
যদিও সূত্রের খবর, নৌশাদ উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বেশ কয়েকজন সিপিএম প্রার্থীর হয়ে প্রচারে যাবেন বলে ঠিক হয়ে গিয়েছে।