নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সেই কবে ব্রিগেড থেকে ‘টুম্পা’র হাত ধরে আধুনিক গানে মজেছিল বঙ্গ সিপিএম। দিন যত গড়িয়েছে সেই ট্রেন্ড বেড়েই চলেছে। বাড়তে বাড়তে কার্যত সংক্রামক পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে এই ট্রেন্ড। এখন ঘটা করে বিধানসভাভিত্তিক ‘থিম সং’ বানাচ্ছে বামেরা। শুধু যে তরুণ প্রার্থীদের থিম সং প্রকাশের প্রতি ঝোঁক এমন নয়। বর্ষীয়ান বাম নেতারাও একই পথে হাঁটছেন। দিনকয়েক আগে যাদবপুর কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ‘থিম সং’ প্রকাশ করেন। আবার আজ, বৃহস্পতিবার টালিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী পার্থপ্রতিম বিশ্বাস প্রকাশ করবেন ‘থিম সং’। ভোটের খাতা খুলতে কি ভরসা গান? ‘থিম সং’ কি ভোট বাড়ায়? এখন এসব দেখে এই প্রশ্নই তুলতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল।
যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ‘থিম সং’ হচ্ছে ‘জামাইকান ফেয়ারওয়েল’ গানের ধাঁচে গাওয়া। তার সঙ্গে মিউজিক ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। যদিও ইতিমধ্যেই প্রকাশ হয়ে গিয়েছে তরুণ প্রার্থীদের গান। সেগুলি সামাজিক মাধ্যম থেকে মিছিল-প্রচারে বাজানোও চলছে। যেমন রাজারহাট-নিউটাউনের প্রার্থী সপ্তর্ষি দেব, পানিহাটির প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত, উত্তরপাড়ার মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের জন্য গান প্রকাশ হয়েছে। দিনকয়েক আগে কলতানের সমর্থনে গান বাজাতে শোনা গিয়েছে মিছিলে। অন্যান্য তরুণ প্রার্থীরাও গানের দিকে হাঁটতে চলেছেন বলে খবর। সূত্রের খবর, অনেকের গান নাকি স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করেও তৈরি করা হচ্ছে। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই প্রচারের জন্য র্যাপ গান তৈরি করেছে। সেই গানও সিপিএমের কর্মী-সমর্থকরা প্রচারে বাজাবেন। সামাজিক মাধ্যমে রিলস তৈরিও করবেন। মূলত গানগুলির মধ্য দিয়ে স্থানীয় ও রাজ্যস্তরের সমস্যা তুলে ধরা হচ্ছে। এর পাশাপাশি তৃণমূল-বিজেপিকেও করা হচ্ছে রাজনৈতিক আক্রমণ। তরুণ প্রার্থীদের পাশাপাশি এবার প্রবীণরাও গানের সুরে ভেসেছেন। তবে সকলে নন। কসবার সিপিএম প্রার্থী দীপু দাস বললেন, ‘আমার এখনও পর্যন্ত গান তৈরির কোনও পরিকল্পনা নেই। বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট বিলি করছি।’
মানুষের প্রশ্ন, ‘গানের প্রতি এত ঝোঁক কেন?’ টালিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী পার্থপ্রতিম বিশ্বাস বললেন, ‘নতুন প্রজন্মের কাছে যতভাবে পৌঁছানো যায় সেই চেষ্টা করা হচ্ছে।’ গান কি ভোট এনে দেয়? পার্থবাবু বলেন, ‘ভোট পাওয়ার অনেক উপায় আছে। ভালো স্লোগান, মিছিল, মিটিং, বৈঠক। এখন তো সামাজিক মাধ্যমে প্রচারটাও গুরুত্বপূর্ণ। সবরকমের উপায়ই আছে প্রচারের। শুধু গান কেন?’