নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এক মাসের মাথায় এক ধাক্কায় কেজিতে ১২ টাকা ৮২ পয়সা দাম বাড়ল অটোর এলপিজি’র। ফলে প্রায় আগুন হয়ে গেল জ্বালানির দাম। নতুন আর্থিক বছরের শুরুতেই কলকাতার অটো চালকদের মাথায় হাত।
১ এপ্রিল দাম বাড়ল। আর অন্যদিকে জোগানে এখনও রয়েছে ঘাটতি। এই দুই কারণ মিলিয়ে শহরের অটো রুটগুলিতে ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি রব। যাত্রী পরিষেবা বজায় রাখা নিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার চালকরা প্রবল দুশ্চিন্তায়। জানা গিয়েছে, বুধবার বিভিন্ন অটো ইউনিয়নের সদস্যরা বৈঠকে বসেন অটোর মালিকদের সঙ্গে। কোথাও আয় থেকে মালিকের লভ্যাংশ কমিয়ে পরিষেবা জারি রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোথাও অটো বন্ধের পথে হাঁটতে চলেছেন অনেক মালিক।
উল্টোডাঙার অটো ইউনিয়ন বুধবার বৈঠকে বসে। এখান থেকে সল্টলেক ও উত্তর কলকাতার একাধিক এলাকার রুট রয়েছে। বাবলা দাস হলেন একটি ইউনিয়নের নেতা। হাডকো থেকে সল্টলেক করুণাময়ী, উল্টোডাঙা থেকে কাঁকুড়গাছি ও কাঁকুড়গাছি থেকে করুণাময়ী, এই তিন রুটে একাধিক অটোও চলে তাঁর। তিনি অটো মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। জানা গিয়েছে, বৈঠকে গাড়ি রুট বন্ধ না করে বিকল্প রাস্তা বের করার চেষ্টা হয়েছে।
বাবলাবাবু বলেন, ‘নতুন অটোর ক্ষেত্রে প্রতিদিন অটোর লাভ থেকে মালিককে ৩০০ টাকা দেন চালকরা। পুরনো অটোর ক্ষেত্রে এই রেট একটু কম। ৫ বছরের বেশি পুরনো অটোর জন্য মালিকদের দৈনিক লভ্যাংশ ছিল ২৫০ টাকা।’ ইউনিয়ন সূত্রে খবর, অটো রুটে এই লভ্যাংশ ‘বাতচিত’ নামে পরিচিত। মালিকদের এই রেটে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভাড়া না বাড়িয়ে পরিষেবার হাল বজায় রাখতে নতুন ও পুরনো— দু’ধরনের অটোর ক্ষেত্রেই ‘বাতচিত’ অটো প্রতি ৩০ টাকা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। মালিকদের কথায়, ‘পরিস্থিতি সঙ্গিন বলে ফের অটোর ভাড়া বাড়লে যাত্রী পাওয়া মুশকিল হবে।’
দক্ষিণ কলকাতায় গড়িয়া-গোলপার্ক, আনোয়ার শাহ-যাদবপুর, তারাতলা-ঠাকুরপুকুর, তারাতলা-রাসবিহারী রুটগুলি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এখন অফিস টাইম ছাড়া বাকি সময় অনেক চালকই অটো বন্ধ রাখছেন। তারাতলা-ঠাকুরপুকুর রুটের চালক গোবিন্দ মণ্ডল বলেন, ‘একেই অটোর জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। রাতভর লাইন দিলে সকালে কিছু পাচ্ছি। তার উপর জ্বালানির দাম আরও ১৩ টাকা বেড়ে গেল। এবার তো গাড়ি বন্ধ রাখা ছাড়া আর উপায় দেখছি না। একদিন ছাড়া চালাতে হবে। না হলে আমরা মারা পড়ব।’
অন্যদিকে সল্টলেক বেলেঘাটা রুটের এক চালকের বক্তব্য, এই অঞ্চলে এখন পাম্পে এলপিজি ভরার তেমন ভিড় হচ্ছে না। চালকদের অটো নিয়ে পাম্পে লাইন দিতে হচ্ছে না। ফলে দাম বাড়ার বিরুদ্ধে একত্র হয়ে প্রতিবাদও জানাতে পারছেন না তাঁরা। এই সুযোগই নিয়েই দাম বাড়িয়েছে সরকার।
অটো এলপিজির পাম্পগুলির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগে সকাল ন’টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত অটোর জন্য ডিপো খোলা থাকত। আমরা সে সময় গ্যাস নিতে পারতাম। এখন ডিপো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দুপুর ১২টায়। ফলে জ্বালানির জোগানে ঘাটতি তো স্বাভাবিক। যাত্রীদের আশঙ্কা, মার্চের শুরুতেই অটো ভাড়া বেড়েছে। ফের বাড়লে বিকল্প গণপরিবহণের পথে হাঁটতে হবে।