শাহের সিএএ’তে নাগরিকত্ব, শংকরকে ভোটাধিকার দিল না জ্ঞানেশের কমিশন
বর্তমান | ০২ এপ্রিল ২০২৬
দেবাঞ্জন দাস ও শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বনগাঁ: ভারতীয় নাগরিকত্বের আশা। তাই ২০১৪ থেকে ভোট পরবে ইভিএমের ‘পদ্মফুল’ বোতামে চাপ দেওয়াটাকে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিল গাইঘাটা, বনগাঁ, বাগদা, গোপালনগরের মতুয়াগড়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নাগাড়ে প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, নাগরিকত্ব এখন ‘সোনার পাথরবাটি’। মাঝখান থেকে নাগরিকত্ব প্রত্যাশী হাজার হাজার উদ্বাস্তু নমঃশূদ্র, মতুয়ার নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। মতুয়া সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুরের ক্যাম্প থেকে নগদের বিনিময়ে সার্টিফিকেট জোগাড় করে ভোটার তালিকায় থেকে যাওয়ার আশা করছিলেন হাজার হাজার মানুষ। সেই শংসাপত্র না লেগেছে নাগরিকত্ব পেতে, না ভোটার তালিকায় টিকে থাকতে। তাই ক্ষোভে ফুঁসছে মতুয়াগড়।
৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে জমা দিলেই জুটবে ভোটার তালিকায় ঢোকার ভিসা, মিলবে নাগরিকত্বও—গত কয়েকদিন ধরে মতুয়াগড়ের মহল্লায় মহল্লায় পদ্মপার্টির ‘কারিওকর্তা’দের এহেন প্রচারকে ভ্রান্ত প্রমাণ করে দিয়েছে জ্ঞানেশ কুমারের নির্বাচন কমিশন। শাহের মন্ত্রক নাগরিকত্ব দিলেও, ভোটার হিসাবে স্বীকৃতি দিতে নারাজ কমিশন। পাশের জেলা নদীয়ার চাকদহের পালপাড়া নেতাজিনগরের বাসিন্দা শংকর কুমার রায়। গত নভেম্বরেই সিএএ’র মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিক হয়েছেন একদা বাংলাদেশের খুলনার বাটিয়াঘাটার বাসিন্দা। আর তিনিই এখন মতুয়াগড়ে অন্যতম চর্চার বিষয়। নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট সহ ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে ভোটার তালিকায় প্রবেশের ‘ভিসা’ চেয়েছিলেন শংকরবাবু। খারিজ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সব শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও কেন পেলেন না ভোটাধিকার? শংকরবাবুর কথায়, ‘ভারতীয় নাগরিক হিসাবে ভোটাধিকার তো সংবিধান স্বীকৃত! সেই শর্ত পূরণ করেও ভোটার হতে পারলম না।’ চাকদহের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শুভঙ্কর (যিশু) সিংহের কথায়, ‘নাগরিকত্ব মেলার কয়েকদিন পরেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেটাই বোধহয় অপরাধ বলে ধরেছে কমিশন।’ শংকরবাবুর কথায়, ‘হতে পারে, এটাই চক্রান্ত!’
শুধু শংকরবাবু কেন, ছিন্নমূল হয়ে বরিশালের (বর্তমানে পিরোজপুর) সারেংকাঠি থেকে এপারে এসেছিলেন পরিমল ঢালি। নাগরিকত্ব পান ১৯৮১ সালের জুলাই মাসে। বর্তমানে চাঁদপাড়ার উদয়নপল্লিতে সপরিবারে বসবাস। ১৯৯৫ সালে ভোটার ছিলেন গাইঘাটা কেন্দ্রের। পুনর্বিন্যাসের পর এখন বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে ভোটার। প্রথমবারের এপিক কার্ডে নাম ছিল পরিমল ঢালি। কমিশনের দেওয়া নতুন এপিক কার্ডে তিনি এখন, পরমল ঢালি। র’এর হ্রস্ব-ই নেই কেন! তাই নাম বাদ বৃদ্ধের।