বেঙ্গালুরু: স্ত্রীর ‘যৌন নিগ্রহে’ মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন স্বামী। অশ্লীল ভিডিও পাঠিয়ে সেগুলি তাঁর সঙ্গে করার জন্য জোর করতেন তরুণী। ছাপোষা জীবনযাপনের মধ্যে স্ত্রীর চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারতেন না তিনি। এমনকী, স্ত্রী তাঁর এক বান্ধবীর সঙ্গেও ওই ব্যক্তিকে যৌন সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে বেঙ্গালুরুতে।
৩৭ বছরের ওই ব্যক্তি স্থানীয় থানায় এফআইআর করে জানিয়েছেন— মেয়ের বাড়ির লোকজনের হস্তক্ষেপে আরও তিক্ত হয়ে উঠেছিল তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক। প্রয়োজনীয় নথি আটকে রেখে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এফআইআর অনুযায়ী— নগরভাবি এলাকার ওই যুবকের সঙ্গে ৩১ বছরের অভিযুক্ত তরুণীর বিয়ে হয় বেঙ্গালুরুর একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে। পরে তাঁরা উত্তর বেঙ্গালুরুর শহরতলি জাক্কুরের একটি ভিলায় থাকতে শুরু করেন। অভিযোগ, অভিযোগকারীর শাশুড়ি ওই বাড়িতে তাঁর যাতায়াত সীমাবদ্ধ করে দেন। তিনি তাঁকে তাঁর মেয়ের জীবন থেকে সরে যেতে বলেন, যাতে মেয়েটি আরও ভালো কোনও জীবনসঙ্গী পেতে পারে। এমনকী, মেয়েটির বাবা তাঁদের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে হুমকি দিতেন বলেও অভিযোগ।
স্ত্রীর বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, আর্থিক অবস্থা নিয়ে স্ত্রীর অপমানে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। তাঁকে প্রতিনিয়ত বুঝিয়ে দেওয়া হত, তাঁর জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে তাঁর স্বামী ব্যর্থ। তাই অধিকাংশ সময় তিনি তাঁর ধনী বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গেই সময় কাটাতেন।
সেখানেই শেষ নয়। স্ত্রীর যৌন নিগ্রহ ও মানসিক অত্যাচারের শিকার হতে হয় তাঁকে। অভিযোগ, বিভিন্ন ‘অস্বাভাবিক’ যৌনতার ভিডিও পাঠিয়ে সেগুলি করতে তাঁকে বাধ্য করতেন ওই মহিলা। এরপর তাঁরই এক বান্ধবীর সঙ্গে শারীরিক ভাবে ঘনিষ্ঠ হতেও বাধ্য করা হয় ওই ব্যক্তিকে। সেই সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বন্ধুবান্ধবদের জানাতে জোর দিতেন ওই তরুণী। পাশাপাশি, নিজের একাধিক প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গে বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কও রাখতেন বলে অভিযোগ।
নির্যাতিত ব্যক্তি পুলিশকে আরও জানান— সমস্যা মেটাতে ২০২৪ সালের জুনে দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনায় বসা হয়েছিল। কিন্তু সেই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ওই ভিলা থেকে জোর করে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। সে সময় প্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে তিনি সেখান থেকে শুধু তাঁর উর্দি ও ল্যাপটপ নিয়ে বেরতে পেরেছিলেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ভিলার মধ্যে ১.৮৭ লক্ষ টাকা নগদের পাশাপাশি ৩৫ গ্রামের সোনার চেন, ১৮ গ্রামের ব্রেসলেট এবং ১১ গ্রাম ওজনের সোনার আংটি-সহ তাঁর পাসপোর্ট ও শিক্ষাগত শংসাপত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিও অবৈধ ভাবে আটকে রাখা হয়েছে। বিয়েতে পাওয়া রুপোর বেশ কয়েকটি প্লেট তিনি স্ত্রীকে উপহার দিয়েছিলেন। সেগুলিও তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। উপরন্তু, তাঁর ল্যাপটপে থাকা বিয়ের সমস্ত ছবি-ভিডিওও মুছে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই মুহূর্তে মানসিক ও যৌন নির্যাতন থেকে রেহাইয়ের পাশাপাশি নিজের নথিপত্র, টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী ফিরে পেতে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে বেঙ্গালুরু পুলিশ।