ভোটার তালিকায় নাম নেই প্রাক্তন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট
আজকাল | ০২ এপ্রিল ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক সময় দেশের হয়ে বিভিন্ন নির্বাচনের আধিকারিক ছিলেন, তাঁর নাম বাদ ভোটার তালিকা থেকে। ৭৬ বছরের মহম্মদ মতিনের কাহিনিটা শুধু অদ্ভুত নয়, ভাবনারও।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেছে প্রাক্তন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট-সহ ২০০-র বেশি বাসিন্দার। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। ভোট পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নিজের গ্রামেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেল প্রাক্তন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মহম্মদ মতিনের।
শুধু তিনি নন, তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য এবং জামালপুর বিধানসভার অন্তর্গত তুরুক-ময়না গ্রামের দুই শতাধিক বাসিন্দার নামও ভোটার তালিকা থেকে ‘ডিলিট’ হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
৭৬ বছরের মহম্মদ মতিন জানান, কর্মজীবনে তিনি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে ভোটার তালিকা সংশোধন, নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি, শুনানি, সব দায়িত্বই পালন করেছেন। পঞ্চায়েত, বিধানসভা ও লোকসভা প্রতিটি স্তরের ভোট পরিচালনার দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। অথচ আজ তাঁর নিজের নামই ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
মতিনের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৭৪ সালে জলপাইগুড়িতে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কে.জি.ও পদে। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালে বিডিও পদে উন্নীত হয়ে মুর্শিদাবাদের সুতি-১ নম্বর ও সাগরদিঘি ব্লকে কাজ করেন। পরে হুগলিতে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে অবসর গ্রহণের পর ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বর্ধমান পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবেও কাজ করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কমিশনের ডাকা শুনানিতে হাজির হয়ে চাকরির পরিচয়পত্র, পুরনো ভোটার তালিকার প্রমাণ, পাসপোর্ট ও পেনশন সংক্রান্ত নথি জমা দেওয়ার পরও অতিরিক্ত (সাপ্লিমেন্টারি) তালিকায় তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে তিনি অপমানিত ও মর্মাহত বলে জানিয়েছেন।
মতিনের বড় ছেলে মহম্মদ মোহিত, যিনি পেশায় শিক্ষক জানান, তাঁর মা রেজিনা বেগম, কাকিমা কাজী ওবায়দাতুল্লাহ এবং আত্মীয় আব্দুল বসিতের নামও তালিকা থেকে বাদ গেছে। তিনি বলেন, “এই বয়সে এসে আমার নিজের বাবা-মা ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন না, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।” এই অনুযোগ ছড়িয়ে গেছে একটা মহলে। আরও আশ্চর্যের, যাঁর কাছে সবাই বিভিন্ন নথিপত্র সই করাতে আসতেন, সেই মতিন সাহেবের নামই ডিলিট হওয়ায় বিভ্রান্ত গ্রামবাসীরা।
জানা গেছে, তুরুক ময়না গ্রামের মোট ২৪৯ জন ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০৬ জনের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় পরিকল্পিতভাবে এই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।
সাংসদ সায়নী ঘোষ বলেন, "এটাই তো চাওয়া হয়েছিল! নির্বাচন কমিশনের কাজ যত বেশি সম্ভব মানুষের নাম তোলা, এখন দেখছি কাজ বাদ দেওয়া। এই কমিশন বিজেপির হয়ে গেছে।" অন্যদিকে বিজেপি নেতা ডা: শান্তরূপ দে জানান, "ওঁর উচিত নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করা। তাহলে আর সমস্যা থাকবে না।" তাঁর কথায়, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটা প্যানিক তৈরি করা হচ্ছে।