‘অরণ্যের পোস্টম্যান’-এ গ্রামবাংলা ও নস্ট্যালজিয়া ফুটে উঠবে পর্দায়
এই সময় | ০২ এপ্রিল ২০২৬
সারি-সারি ধানের গোলা, পাশ থেকে বয়ে যাচ্ছে ময়ূরাক্ষী নদী। তার কিছুটা দূরেই চলছে সিনেমার শুটিং। সিনেমার গল্প এ রকম, জঙ্গলঘেরা পাথুরে পথ পেরিয়ে প্রতিদিন চিঠি পৌঁছে দেয় রাজা। গ্রামের পোস্টম্যান। সবার চিঠি পৌঁছে দিলেও আজ পর্যন্ত তার নামে কোনও চিঠি আসেনি। তবুও প্রতি রবিবার সে চিঠি লেখে— তার মৃত মাকে। মাঝে রাজার পরিচয় হয় ছোট্ট বিলে-র সঙ্গে। বিলে তার বাবাকে চিঠি লেখে, যে নাকি ‘ভালো জায়গা’ খুঁজতে গিয়েছে— যেখানে হিংসা নেই, ঘৃণা নেই। বিলে জানে না, জল-জমি-জঙ্গলের আন্দোলনে তার বাবা মারা গিয়েছে।
শুটিংয়ের ফাঁকে অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী-র সঙ্গে জমল আড্ডা। কলকাতা, মুম্বইয়ের পরে এখন সাঁইথিয়ায় শুটিং, সব মিলিয়ে অভিনেত্রীর কেমন কাটছে জীবন? অঙ্কিতার উত্তর, ‘জীবন তো দারুণ কাটছে। আমি আসলে জীবনটা এক্সাক্টলি যে ভাবে কাটাতে চাই সে ভাবেই কাটাতে পারছি।’ আবার বাংলায় কাজ করতে এতটা সময় লেগে গেল কেন? ‘দেরি করা তো আমার হাতে নেই, আমাকে নিয়ে ভালো কোনও কাজের জন্য ভাবা হলে তো কাজ করতে তৈরিই। আমাদের মতো শিল্পীরা, যাঁদের একটা অন্য রকম খিদে আছে, তাঁরা কিছু দিন কাজ করার পর একটু এক্সপেরিমেন্টাল কাজ করি, কারণ তখন সারভাইভ করার জন্য হাতে কিছুটা অর্থ থাকে।’
বাংলা ধারাবাহিকের হাত ধরেই আপনার জনপ্রিয়তা, যে সময় থেকে আপনি শুরু করেছেন, ধারাবাহিকের গল্পের প্যাটার্ন অন্য রকম ছিল। এখনকার ধরন ঠিক কতটা বদলেছে? ‘ইষ্টিকুটুম আমাকে সবথেকে বেশি জনপ্রিয়তা দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু নিরপেক্ষ ভাবে বলতে গেলে তার পর থেকে গল্প সে ভাবে মন ছোঁয়নি। গল্পে বৈচিত্র ছিল। কিন্তু আস্তে-আস্তে সেটা এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গিয়েছে, তা নিয়ে ভাবতে খারাপই লাগে।’ মুম্বই ও কলকাতা ইন্ডাস্ট্রির পার্থক্য কোথায়? অভিনেত্রীর কথায়, ‘ধারাবাহিকের কনটেন্টের ক্ষেত্রে কোনও ফারাক নেই। তবে ওখানের কাজটা অনেক বেশি সিস্টেমেটিক। আর ওখানে অডিশন দেওয়ার সিস্টেম আছে, যেটা বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে নেই। মুম্বইতে অভিনয়ের নিরিখে কাজ দেওয়া হয় কিন্তু কলকাতায় তা হয় না। ছোট ইন্ডাস্ট্রি, অল্প সংখ্যক লোক, তার মধ্যেই কাজ দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। এটা বড় রকমের সমস্যা।’