• বেশি দর্শককে হলমুখী করাই আমাদের কাজ: অর্জুন দত্ত
    এই সময় | ০২ এপ্রিল ২০২৬
  • জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক অর্জুন দত্তর পরের কাজ মুক্তি পেতে চলেছে কিছু দিনের মধ্যেই। তার আগে পরের কাজ থেকে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কথা বললেন তিনি।

    অন্য সময় প্রাইম: জাতীয় পুরস্কার পাওয়া কাজের পরেই এই ছবি, দর্শক কি কনফিউজ়ড হয়ে যেতে পারেন?

    অর্জুন: শহুরে গণ্ডি ভেঙে শহরতলির গল্প বলেছি। কমেডি সিনেমা, তবে মজার ছলে অনেক ভারী জিনিসকে সামনে তুলে ধরা হয়েছে। আর সিরিয়াস কোনও ইস্যু কি সিরিয়াস ওয়েতেই সামনে তুলে ধরতে হবে? আমি বিভিন্ন জ়্যঁরের কাজ শুরু থেকেই করি। ফিল্মমেকার হিসেবে গল্প বলাটাই কাজ, তাই বাড়তি না ভেবে সেটাই ভালো ভাবে করতে চাই। আমি নিজেও সব রকম ছবি দেখতে পছন্দ করি। বলতে পারেন, ছবিটা নাইনটিজ়ের বলিউডকে ট্রিবিউট।

    অন্য সময় প্রাইম: তকমাটা কি কাজটা একটু হলেও কঠিন করে দিয়েছে?

    অর্জুন: না, না। নিজেকে এতটাও সিরিয়াসলি নিই না। জীবনেরই যেখানে কোনও নিশ্চয়তা নেই, সেখানে কোনও কিছু এত সিরিয়াসলি নিয়ে লাভ কী! হঠাৎ করেই মাকে হারিয়েছিলাম, ‘ডিপ ফ্রিজ়’-র ঠিক আগে বাবাকেও হারাই, তার পর থেকে সত্যিই জীবনের কোনও কিছুকেই খুব সিরিয়াসলি নিই না। কারণ, যা হওয়ার সেটা হবেই। আমাদের ভাগ্যে যা রয়েছে, সেটা ঘটবেই। যা আমাদের ভাগ্যে নেই, তা নিয়ে হাজার চেষ্টা করেও লাভ নেই। আর ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয়, কোনও জিনিসের পিছনে ছোটা বন্ধ করলেই আমরা আসলে জীবনে অনেক কিছু পেতে শুরু করি। অবশ্যই ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড একটা দায়িত্ববোধ বাড়িয়েছে, কিন্তু ওই টুকুই। আমি খুব একটা স্ট্র্যাটেজিক নই, বরং গো উইথ দ্য ফ্লো পার্সন।

    অন্য সময় প্রাইম: স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় এবং পাওলি দামের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

    অর্জুন: স্বস্তিকাদির সঙ্গে এটা আমার তিন নম্বর কাজ। ওঁর পাশাপাশি পাওলির সঙ্গে কাজ করেও দারুণ লেগেছে। দু’জনেই বলিষ্ঠ অভিনেত্রী ও দারুণ ভাবে পেশাদার। দু’জনের কাজ দেখে দারুণ আনন্দ পাবেন বলেই প্রত্যাশা রাখি। ওঁদের সঙ্গে অনির্বাণদা-ও (চক্রবর্তী) আছেন। একটা বিষয় শুধু জানিয়ে রাখি, ‘বিবি পায়রা’ নামটা কোনও চমকের জন্য নয়, আসলে দু’জন বিবি ও একজন পায়রার গল্প রয়েছে বলেই এই নামটা বেছে নেওয়া।

    অন্য সময় প্রাইম: ভোটের আবহে ছবি রিলিজ়, ব্যবসা নিয়ে চিন্তিত নন?

    অর্জুন: সে ভাবে তো কোনও সঠিক বা ভুল সময় হয় না। বিশেষ করে বাংলা ছবির ক্ষেত্রে বলব। কারণ, গত এক বছরের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে কোন বাংলা ছবি প্রত্যাশা ছাপিয়ে গিয়ে ব্যবসা করেছে? তাই সঠিক সময় কোনটাকে বলব! আর ভুল-ঠিক সময়টা আমরা জানতে পারলে তো সবাই ওই ফর্মুলা ধরেই এগোতাম। একটা নির্দিষ্ট সময়কেই সবাই টার্গেট করতেন ছবি রিলিজ়ের জন্য। সবটাই তো ট্রায়াল অ্যান্ড টেস্টিং মেথড, সঙ্গে প্রত্যাশা রাখা যাতে দর্শকদের কাজটা ভালো লাগে। ঠিক কী ওয়ার্ক করবে বা কী করবে না সেটা বোঝা বা জানা মুশকিল, শুধু আমাদের কাজ চেষ্টাটা বজায় রাখা। যাতে আরও বেশি সংখ্যক দর্শক হলমুখী হন।

    অন্য সময় প্রাইম: স্ক্রিনিং কমিটি এই মুহূর্তে যে ভূমিকা পালন করছে তা নিয়ে কী বলবেন?

    অর্জুন: তারা তো ভালো কাজই করছে বলব। কারণ, হুড়মুড় করে একসঙ্গে সব বাংলা ছবি রিলিজ় করলে তো মুশকিল। সব ছবির ব্যবসাতেই তার প্রভাব পড়বে। শুধু চাইব সবাইকে যেন একই রকম প্রাধান্য দেওয়া হয়। এমনিতেই বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা আমরা সকলেই জানি। খুব বেশি সংখ্যক দর্শক হলে বাংলা ছবি দেখতে যাচ্ছেন না। যেটা অ্যালার্মিং। তাই এইটুকু ইন্ডাস্ট্রিতে কাড়াকাড়ি না করে সবাই একটা পরিবার ও ইউনিট হিসেবে কাজ করতে পারলে সবারই ভালো হবে।
  • Link to this news (এই সময়)