মালদার ঘটনাকে ‘পরিকল্পনামাফিক ঘটনা’ বলে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি থেকে মন্তব্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তুললেন মুখ্যমন্ত্রী। সব আধিকারিক বদলে দিয়ে, তাঁর হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে নির্বাচন কমিশন এখানে ‘সুপার রাষ্ট্রপতি শাসন’ চালাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সাগরদিঘির সভা থেকে মমতা বলেন, ‘কালকের একটা ঘটনা সব ঘটনাকে নষ্ট করে দিয়েছে। আমি জানি না কারা এটা করেছে। তবে যারা করেছে, ডেফিনেটলি প্ল্যান করে করেছে। আমার খুব মনে হচ্ছে, একমাত্র মানুষ ছাড়া আর কেউ আমার সঙ্গে নেই। এ বার ওরা নির্বাচন বাতিলের চক্রান্ত করছে। একটা ঘটনা নিয়ে বলে দিচ্ছে সারা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা খারাপ।’
মমতা বুঝিয়ে দেন, মালদায় যে ঘটনা ঘটেছে, তার দায় নির্বাচন কমিশনেরই। তিনি বলেন, ‘আমার হাতে এখন প্রশাসন নেই। আইনশৃঙ্খলা এখন সবটাই আমার হাত থেকে কেড়ে নির্বাচন কমিশনের হাতে গিয়েছে। ওরা হোম মিনিস্টার অমিত শাহের কথায় চলে। আমার কথায় চলে না।’
এর পরেই মালদার কালিয়াচকের ঘটনা প্রসঙ্গে মমতাকে বলতে শোনা যায়, ‘মুখ্যসচিব থেকে পুলিশ সুপার, সকলে বদলে গিয়েছেন। যাঁরা কাজ করতেন, যাঁরা এলাকা চিনতেন-জানতেন, তাঁদের তামিলনাড়ু, কেরালায় পাঠিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সব কিছু সামলানো এত সহজ নয়। সবাই সব কিছু পারে না। আপনি ইলেকশনের কাজ করুন। আইনশৃঙ্খলা ভালো থাকতে দিন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব আপনারাই ঠিক করেছেন, আপনারাই শো-কজ় করেছেন। ডিজি, সিপি, এসপি আপনারা ঠিক করেছেন। তাঁরা নতুন এসে জানবেন কী করে?’
মমতা মনে করেন, মানুষের ক্ষোভ থাকতেই পারে। তবে মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর দিনাজপুর জুড়ে বিজেপির ‘গেমপ্ল্যান’ অনুযায়ী কাজ চলছে। নতুন মুখ্যসচিব এখনও পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি বলেও জানান মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘আমার হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে, একদিকে হোম মিনিস্টার আর অন্য দিকে রাজ্যপালকে ডেকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন এখানে সুপার রাষ্ট্রপতি শাসন চালাচ্ছে।’