বিধানসভা নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা কোচবিহারে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলাশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন জমা দিতে যায় বিজেপি, তৃণমূল এবং সিপিএমের প্রার্থীরা। এ দিন প্রথমে সিপিএম প্রার্থী প্রণয় কার্জি মনোনয়ন জমা দেন। এর পরে মনোনয়ন জমা দিতে যান কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক। পাশাপাশি এ দিন কোচবিহার উত্তরের বিজেপি প্রার্থী সুকুমার রায় ও দক্ষিণের বিজেপির প্রার্থী রথীন্দ্র নাথ বোসের মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা ছিল। রাস্তার কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ও ছিল সে কারণে। সেই সময়ে তৃণমূল প্রার্থী বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের জমায়েতের পাশ দিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে যান। সেই সময়েই উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বন্ধ করে দেওয়া হয় এলাকার কিছু দোকান এবং একটি ব্যাঙ্ক। খবর পেয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সূত্রের খবর, জমায়েত সামলাতে প্রশাসন আগে থেকেই তৃণমূল ও বিজেপির জন্য আলাদা রুট ঠিক করে দিয়েছিল। কিন্তু কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী বিজেপির জমায়েতের দিক দিয়েই মনোনয়ন জমা দিতে আসেন। যার জেরেই শুরু হয় গন্ডগোল। বিজেপি কর্মীরা তৃণমূল প্রার্থীর পথ আটকে দিলে দুপক্ষের মধ্যে তুমুল বচসা বেঁধে যায়। মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা।
তৃণমূল কর্মীদের দাপটে এক সময় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় বিজেপির জমায়েত। ঘটনায় জেলা প্রশাসনের দিকেই আঙুল তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের অভিযোগ, রুট ঠিক থাকা সত্ত্বেও কেন তৃণমূলের মিছিল তাদের দিকে আসতে দেওয়া হলো।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। দুপক্ষের সংঘর্ষের জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অশান্তি এড়াতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই লড়াইয়ে কোচবিহারের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।