বুধবার রাতের পরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মালদার বিভিন্ন জায়গায় অশান্তির আঁচ। পথ অবরোধ চলছে, জ্বলছে টায়ার। একটাই দাবি, নথি থাকতেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া চলবে না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ দিন মালদার ইংরেজবাজারের যদুপুর এলাকায় পুলিশ সুপারের কনভয়ে থাকা এসকর্ট কার ভাঙচুর করার অভিযোগ ওঠে। বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইটের আঘাতে রক্তাক্ত হন গাড়ির চালক। তাঁকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, যদুপুরে বিক্ষোভ-অশান্তির খবর পেয়ে পুলিশ সুপারের কনভয় যাচ্ছিল। এসপির কনভয়ের একেবারে সামনে থাকা গাড়িটিতে আচমকাই ইট ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। তাতেই আঘাত লাগে চালকেরও।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার তুমুল অশান্তি চলে মোথাবাড়ির কালিয়াচকে। SIR-র কাজে যুক্ত বিচারকদের আটকে রেখে চলে তাণ্ডব। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে রাজ্যকে।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে তোপ দেগেছেন মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির জনসভা থেকে। তুলে এনেছেন আধিকারিক বদলের প্রসঙ্গ। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের আগে সিংহভাগ প্রশাসনিক আধিকারিক বদলে দিয়েছে। মমতার দাবি, যাঁরা জেলাগুলিকে চিনতেন-জানতেন, ভোটের আগে তাঁদের সরিয়ে নতুন মুখ এনেছেন।
মমতার কথায়, ‘মুখ্যসচিব থেকে পুলিশ সুপার, সকলকে বদলে দিয়েছেন। যাঁরা কাজ করতেন, যাঁরা এলাকা চিনতেন-জানতেন, তাঁদের তামিলনাড়ু, কেরালায় পাঠিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সব কিছু সামলানো এত সহজ নয়।’
বৃহস্পতিবারও মালদার ইংরেজবাজার, মানিকচকে অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, কোথাও আবার বাঁশ ফেলে অবরোধ কর্মসূচি চলেছে। মালদার ইংরেজবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের যদুপুর-১ গ্রামপঞ্চায়েতের যদুপুর হাইস্কুল মোড়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তারা বৈধ ভোটার অথচ তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এরই প্রতিবাদে তাঁরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। অন্যদিকে মানিকচক স্ট্যান্ডেও আন্দোলনের শামিল এলাকার কয়েকশো মহিলা পুরুষ।