আজকাল ওয়েবডেস্ক: মালদহের ঘটনায় এবার আরও কড়া পদক্ষেপ শীর্ষ আদালতের। মালদহের দফায় দফায় বিক্ষোভের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিং কপূর, মালদহ পুলিশ সুপার অনুপম সিংকে শোকজের নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হবে না, সেই কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মালদহের ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর ‘নির্লজ্জ হামলা’ হিসেবে জানিয়েছে।
এদিন শীর্ষ আদালতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, 'আজ ২ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির তরফে গতকালের ঘটনাটি জানানো হয়েছে। গতকাল রাতে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জানানো হয়, মালদহ জেলার কালিয়াচক এলাকায় তিনজন মহিলা-সহ মোট সাতজন বিচারককে দুষ্কৃতীরা ঘেরাও করে রেখেছিল। এই ঘেরাও বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে শুরু হয়। রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার, কেউই তখন ঘটনাস্থলে পৌঁছননি। এরপর হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিজে থেকেই রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকে ফোন করতে হয়েছিল।'
শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ আরও জানিয়েছে, 'অবশেষে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ডিজিপি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির বাসভবনে পৌঁছন। সিনিয়র বিচারপতিরাও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। রাত ১২টার পর বিচারকদের মুক্ত করা হয়। কিন্তু মধ্যরাতে মুক্ত হওয়ার পর যখন তাঁরা ফিরছিলেন, তখন তাঁদের গাড়ির উপর পাথর ছোড়া হয় এবং লাঠি, বাঁশ দিয়ে আক্রমণ করা হয়।'
শীর্ষ আদালতে জানিয়েছে, আগামী সোমবার, ৬ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার ফের শুনানি হবে। ওই দিন শুনানিতে ভার্চুয়ালি রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশের ডিজি, মালদহের জেলাশাসক এবং এসপি-কে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি বলেন, 'হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা আতঙ্কিত। গতকাল মুখ্যসচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি এবং হোয়াট্সঅ্যাপ বার্তা পাঠানোর জন্য তাঁর নম্বরও পাওয়া যায়নি। আগেই নির্দেশ দিয়েছিলাম, এসআইআর প্রক্রিয়ায় আপত্তি নিষ্পত্তির দায়িত্ব বিচারকদের দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই ঘটনা শুধু বিচারকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং এটি এই আদালতকেও চ্যালেঞ্জ করছে। এটি কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। বরং পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য বিচারকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া।'
সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, যেখানে বিচারকেরা নিষ্পত্তির কাজ করছেন, পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে নিয়ে সেগুলি সেই সব জায়গায় মোতায়েন করতে হবে।
ভোটের মুখে মালদহের এহেন ঘটনা নিয়ে এবার রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তের কাছে রিপোর্ট তলব করল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকেও। এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
টানা কয়েক ঘণ্টা পর ঘেরাওমুক্ত হয়েছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জেলার পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে তাঁদের মুক্ত করা হয়।
গতকাল রাত ১২টার পর ঘেরাওমুক্ত হন সেখানে আটকে থাকা বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। প্রায় আট ঘণ্টা পরে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বিক্ষোভস্থল থেকে নিয়ে যায়। এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকের সুজাপুর বিধানসভার ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ মুক্ত হল। জানা গিয়েছে, চার দিনের মধ্যে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় তোলার প্রশাসনের প্রতিশ্রুতির পর অবরোধ তোলেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে, আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ঘেরাও হওয়া বিচারকদের উদ্ধারের সময় পুলিশের লাঠিচার্জ করা হয়। এর পর বিচারকদের নিয়ে কনভয় যখন যাচ্ছিল তখন এক আন্দোলনকারীকে ধাক্কা মারা হয়। তিনি আহত হন বলে অভিযোগ।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করতে পারেন। কিন্তু মালদহে বিক্ষোভকারীদের দাবি ছিল, তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে। এই দাবিতে বুধবার সকাল থেকে মালদহের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়। মোথাবাড়ি এবং সুজাপুর এলাকায় সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করেন এলাকাবাসীদের একাংশ।
১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল ১১টা থেকে অবরোধ বিক্ষোভ শুরু হয়। যা গভীর রাত পর্যন্ত চলে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল, মালদহের কালিয়াচক এক নম্বর ব্লক কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লক ইংরেজবাজার সহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের নাম এসআইআর এর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে সব নাম ভোটার লিস্টে তোলার দাবিতে অবরোধ করা হয়। এর ফলে টানা প্রায় ১২ ঘন্টা অবরুদ্ধ হয়ে থাকে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক।