• ভবানীপুরের ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব দেওয়া হল মন্ত্রী জাভেদকে
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০২ এপ্রিল ২০২৬
  • প্রাথমিকভাবে ভবানীপুর বিধানসভার আটটি ওয়ার্ডের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি  সুব্রত বক্সী দেখছিলেন ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২ এবং ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড। অন্যদিকে, কলকাতার মেয়র ও মন্ত্রী  ফিরহাদ হাকিমের উপর ছিল ৭৪, ৭৭ এবং ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব। তবে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিশেষভাবে নজর দিতে জাভেদ খানকে আনা হয়েছে।আসন্ন ভোটে তিনি কসবা কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    গত কয়েকটি নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভবানীপুরের পাঁচ থেকে ছ’টি ওয়ার্ডে বিজেপি ভালো ভোট পেয়েছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত বক্সীকে ১৭৬ ভোটে পিছনে ফেলে দিয়েছিলেন বিজেপি-র প্রার্থী তথাগত রায়।  পরবর্তী ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ফলাফলের নিরিখে পুরো বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়ে না থাকলেও পাঁচ থেকে ছ’টি ওয়ার্ডে এগিয়ে গিয়েছিল বিজেপি। এর মধ্যে ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড অন্যতম, যেখানে ২০২৪ সালে বিজেপি প্রায় দেড় হাজার ভোটে এগিয়ে ছিল।

    উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৃণমূলের সুস্মিতা ভট্টাচার্য হলেও লোকসভা নির্বাচনে বার বার পিছিয়ে পড়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আগেভাগেই সতর্ক হয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে ওই ওয়ার্ডে ১ হাজার ৪৬৮ ভোটে এগিয়ে গিয়েছিল পদ্ম শিবির। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে যাতে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে এখন থেকেই সজাগ তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্ব। তাই ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটের যাবতীয় দায়িত্ব জাভেদ খানকে দেওয়া হয়েছে।

    যদিও জাভেদ খান প্রকাশ্যে ‘বিশেষ দায়িত্ব’ পাওয়ার কথা স্বীকার করেননি। তিনি বলেন, ‘আমায় দল ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডের দেখভাল করার দায়িত্ব দিয়েছে। ভবানীপুরের বিধায়ক হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী অনেক কাজ করেছেন। সেই কাজগুলি ওই ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি মানুষের জানা উচিত। আমি ওই ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি বাড়িতে গিয়ে বিধায়ক এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভবানীপুরে কী কী কাজ করেছেন, সে কথা ভোটারদের কাছে পৌঁছে দেব।’

    অনেকের মতে এই ওয়ার্ডের দায়িত্ব আগে রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর উপর ছিল, তাই জাভেদ সরাসরি ‘দায়িত্ব’ নেওয়ার কথা বলতে চাইছেন না। কলকাতার মেয়র ও মন্ত্রী  ফিরহাদ হাকিমও কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হলেও ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে প্রচার করছেন। দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সূত্রের মতে, জাভেদকেও ৬৩ নম্বর ওয়ার্ডে একই ধরনের কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—যেখানে তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও দলের উন্নয়নমূলক কাজ তুলে ধরবেন।

     
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)