• সমুদ্রের পাড়েই ছিল গাড়ি, হোটেল না পেয়ে নামেন জলে, মন্দারমণিতে চিকিৎসক দম্পতির মৃত্যু কী ভাবে?
    এই সময় | ০২ এপ্রিল ২০২৬
  • বুধবার রাত আটটা নাগাদ গাড়ি এসে থামে তাজপুরে। সমুদ্র সৈকতের কাছে হোটেল খুঁজছিলেন দম্পতি। হোটেল না পেয়ে এগিয়ে যান সমুদ্রের দিকে। সবার অগোচরে ধীরে ধীরে সমুদ্রের গভীরে যেতে শুরু করেন। হঠাৎই জলের তোড়ে তলিয়ে যেতে থাকেন স্ত্রী শৈলজা ভরদ্বাজ (৩২)। তাঁকে বাঁচাতে যান স্বামী কুন্তল চক্রবর্তী (৩৫)। শেষমেশ দু’জনেরই মৃত্যু। তালসারিতে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরে ফের সমুদ্র সৈকতে দুর্ঘটনার খবর। এই ঘটনায় পর্যটকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

    বুধবার রাতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তাজপুর সমুদ্র সৈকতে তলিয়ে মৃত্যু হয় চিকিৎসক দম্পতির। পুলিশ সূত্রের খবর, মৃত দু’জন বুধবার রাতে কলকাতা থেকে প্রাইভেট গাড়িতে করে তাজপুর এসে পৌঁছয়। তাঁরা সমুদ্রে নামার সময়ে সমুদ্রের পাড়েই অপেক্ষা করছিলেন তাঁদের গাড়ির চালক। এ দিন জোয়ারের সময় দু’জনে সমুদ্রের মধ্যে বেশ কিছুটা এগিয়ে যান। গাড়ির চালক বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের দু’জনকে দেখতে না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে, মন্দারমণি উপকূল থানায় খবর দেন তিনি।

    পুলিশ তাজপুরের বিশ্ব বাংলা উদ্যানের কাছে তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়। তড়িঘড়ি বালিসাই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে তাঁদের ময়নাতদন্ত হয়। মৃতদের পরিবার সূত্রে খবর, কুন্তল কলকাতার একটি নার্সিংহোমের চিকিৎসক। তাঁর স্ত্রী শৈলজা মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল মহকুমা হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। গত তিন বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়।

    কাঁথি মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দিবাকর দাস বলেন, ‘ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আমরা পুরো ঘটনার তদন্ত করে দেখছি।’ ঘটনার সময়ে তাঁরা মদ্যপ ছিলেন কি না সে ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত রবিবার তালসারিতে শুটিংয়ের সময়ে জলে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর মৃত্যু নিয়েও বেশ কিছু ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)