এসআইআরের (SIR) কাজে যুক্ত সাত বিচারককে মালদার মোথাবাড়িতে আটকে রাখার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। এক মহিলা বিচারকের কাতর কণ্ঠস্বর গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে— যেখানে তিনি নিজের বেঁচে ফেরা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সেই ভিডিয়ো ভাইরাল। প্রশ্ন উঠছে, যেখানে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে থাকা জুডিশিয়াল অফিসারদেরই এই কাজ সুষ্ঠু ভাবে করতে নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে হচ্ছে, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এই ঘটনায় এখনও অবধি ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একজন আবার ISF প্রার্থীও আছেন। মোট ৪টি মামলা দায়ের হয়েছে।
একাধিক জামিন অযোগ্য ধারাও যুক্ত আছে। প্রশ্ন হলো— এত বড় ঘটনা ঘটল কী ভাবে? কেন তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া গেল না? মালদার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মকসুদ হাসান এই সময় অনলাইনকে বলেন, ‘৪টি অভিযোগ দায়ের করে ঘটনার তদন্ত চলছে।’
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে SIR-র কাজে জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা বিচারাধীন কেসগুলির জন্য ভোটারদের নথি খতিয়ে দেখছেন। এই জুডিশিয়াল অফিসারদের নিরাপত্তার দায়িত্বে পুলিশ প্রশাসন, যারা এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে।
জানা গিয়েছে, জুডিশিয়াল অফিসারদের সঙ্গে থাকেন পার্সোনাল সিকিউরিটি অফিসার (PSO), মূলত কনস্টেবল পদে আছেন এমন কেউ। জুডিশিয়াল অফিসার বা বিচারকরা নির্দিষ্ট অফিসে বসে (বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই SDO যা BDO অফিস) নথি যাচাইয়ের কাজ করেন। একাধিক জেলা পুলিশের কর্তার দাবি, সেখানে কমপক্ষে হাফ সেকশন কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে। আর তাঁদের যাতায়াতের পথে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কনভয়। যেখানে ৪ জন CRPF, একজন পুলিশ থাকে।
তা হলে ফাঁক কোথায় থাকল? পুলিশের একাংশ মানছেন, উন্মত্ত জনতাকে বোঝাতে গিয়ে অনেকটা সময় ব্যয় হয়েছে। ফোর্স ব্যবহার করে এই কাজ করতে গেলে আরও সমস্যা বাড়তে পারত। তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এমন একটি ক্ষেত্রে এই ঘটনা ঘটল কী ভাবে? কেন কড়া পদক্ষেপ নিতে দেরি করল জেলা পুলিশ?
বুধবার বিকেল ৪টে থেকে মোথাবাড়ি বিধানসভার অন্তর্গত কালিয়াচক–২ বিডিও অফিসে তিন মহিলা–সহ সাত জন জুডিশিয়াল অফিসারকে আটকে রাখে বলে অভিযোগ। বিডিও অফিসের দু’টি গেট আটকে রাত পর্যন্ত চলে বিক্ষোভ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকজন বিচারক গাড়িতে চেপে মালদা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন ।এমন সময়ে রাস্তায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন ‘ডিলিটেড’ ভোটারদের একাংশ। কয়েকটি গাড়িতে ‘জজ’ লেখা দেখেই আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে জনতা। এর পরে গাড়ি থেকে নামিয়ে কার্যত তাঁদের বেশ কিছুটা রাস্তা হাঁটিয়ে নিয়ে গিয়ে ওই বিডিও অফিসে আটকে রাখা হয়। রাত সাড়ে ১২টার পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী এলে ঘেরাওমুক্ত হন সবাই।