• সবুজ ঝড়েও রাম-বামের টিকিটে জয়, কিন্তু এ বার তৃণমূলের প্রার্থী! হ্যাটট্রিক করতে পারবেন তাপসী? প্রার্থী বললেন...
    এই সময় | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • রাজ্য জুড়ে সবুজ ঝড়ের মধ্যে পর পর দু'বারই বিরোধী প্রার্থী হিসেবে জিতেছেন তিনি। একবার সিপিএমের টিকিটে। আর একবার বিজেপির হয়ে দাঁড়িয়ে। কিন্তু এ বার তিনি শাসক তৃণমূলের প্রার্থী। পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় সেই তাপসী মণ্ডল কি আসন্ন বিধানসভা ভোটে জয়ের হ্যাটট্রিক করতে পারবেন, এই প্রশ্ন ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে শিল্পশহরে।

    ২০১১ সালের পর থেকে হলদিয়ায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি তৃণমূল। ২০১৬ এবং ২০২১, পর পর দু'টি বিধানসভা ভোটেই হেরেছেন শাসকদলের প্রার্থীরা সেখানে। ২০১৬ সালের ভোটে তৃণমূল হলদিয়ায় প্রার্থী করেছিল মধুরিমা মণ্ডলকে। কিন্তু সে বার সিপিএমের টিকিটে দাঁড়ানো তাপসীর কাছে হেরে যান তিনি। গোটা রাজ্য জুড়ে যখন তৃণমূলের জয়জয়কার, তখন হলদিয়ায় তাপসীর জয় স্বাভাবিকভাবেই অনেককে চমকে দিয়েছিল। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থীও করে পদ্মশিবির। তাপসী জিতে যান। কিন্তু তার পর থেকেই বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। এর পর ২০২৫ সালে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন তাপসী।

    সেই সময়ে তাপসীকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, আগামী বিধানসভা ভোটে তৃণমূল তাঁকে হলদিয়ার প্রার্থী করলে 'বলে বলে' হারানো হবে। কিন্তু সেই তাপসীকেই প্রার্থী করেছে। প্রার্থী হওয়ার পর তিনি বলেছেন, 'হলদিয়ায় এ বার জোড়াফুলই ফুটবে। আমি আশাবাদী। মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। শিল্পশহরে এ বার জোড়াফুল ফুটিয়ে দেখাব আমি। বিজেপি কোনও উন্নয়নই করেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই যা করার করেছেন। এ বার হলদিয়ায় জোড়াফুল মাথা তুলে দাঁড়াবে।'

    জেলার রাজনীতির বৃত্তে যাঁরা ঘোরাফেরা করেন, তাঁদের একাংশের মত, তাপসীর নিজস্ব 'ক্যারিশমা' যে রয়েছে এবং তাতে যে ভোট বৈতরণী পার করা যায়, তা তিনি বার বার দেখিয়েছেন। ২০১৬ এবং ২০২১, এই দুই নির্বাচনেই রাজ্যে সবুজ ঝড়ের মধ্যে তিনি জিতে এসেছেন। এ বারও সেই 'ক্যারিশমা'ই কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন তাপসী। ঘটনাচক্রে, ২০১৬ সালে তাপসী যখন জিতেছিলেন, তখন শুভেন্দু নিজেই হলদিয়া দেখভাল করতেন। পরে অবশ্য তাঁর হাত ধরেই বিজেপিতে যোগ দেন তাপসী। সেই সময়ে তাঁকে শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠবৃত্তেই দেখা যেত। তাই প্রত্যাশিত ভাবেই তাঁর দলবদল ভালো চোখে দেখেননি বিরোধী দলনেতা।

    তবে পাল্টা অভিমতও রয়েছে। অনেকের মত, তাপসী তৃণমূলে আসায় স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশ সেই সময়ে খুশি ছিলেন না। দলে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন ছিল। ফলে গোষ্ঠকোন্দলের জেরে পরাজয়ের আশঙ্কা রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, হলদিয়ার শহরাঞ্চলে শাসকদলকে নিয়ে একরকম ক্ষোভ রয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘ দিন ধরে পুরপ্রশাসক দিয়ে হলদিয়া পুরসভা পরিচালিত হওয়ায় কাজ সে ভাবে হয়নি। আসন্ন বিধানসভা ভোটে এই ক্ষোভের আঁচ তাপসীর গায়ে লাগার সম্ভাবনা প্রবল।

    তৃণমূল অবশ্য আশাবাদী, তাপসীই জিতবেন। তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজিতকুমার রায় বলেন, '২০২৬ সালে হলদিয়ায় জোড়াফুল ফুটছেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে শ্রমিকদের পাশে থেকেছেন,এলাকার উন্নয়ন করেছেন, হলদিয়ায় তৃণমূলের জয় নিশ্চিত।'

    পাল্টা তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি আনন্দময় অধিকারী বলেন, 'গত দশ বছরে হলদিয়ায় কী উন্নয়ন হয়েছে, তার শ্বেতপত্র আগে প্রকাশ করুক তৃণমূল। তার পর মানুষের কাছে ভোট চাইতে যাবে। তাপসী মণ্ডল সুবিধাবাদী। নিজেরটা ছাড়া সাধারন মানুষের কথা ভাবেনি। তাই বারবার দলবদল করেছেন। এবার আর পারবেন না উনি। বিজেপির প্রার্থীই জিতবেন।' পূর্ব মেদিনীপুরে সিপিএমের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য পরিতোষ পট্টনায়ক বলেন, 'উনি নিজের স্বার্থ ছাড়া কিচ্ছু বোঝেন না। গিরগিটির মতো দলবদল করেছেন।'

  • Link to this news (এই সময়)