ধর্মীয় বিভাজন করছে, মালদহ নিয়ে বিজেপির তিরে তৃণমূল
আজকাল | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায় বুধবার থেকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখা হয় সাত জন বিচারককে। প্রায় সাত ঘণ্টা পরে তাঁরা ঘেরাওমুক্ত হন। এছাড়াও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের গাড়িতে আক্রমণ করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এনআইএ বা সিবিআই তদন্তের কথাও বলেছে শীর্ষ আদালত। এই মালদা প্রসঙ্গ নিয়েই তৃণমূলকে এক হাত নিল বিজেপি। রাজ্যের বিরোধী দলের অভিযোগ, ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করছে তৃণমূল কংগ্রেস। চারিদিকে অনুপ্রবেশকারীদের ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিন ভবানীপুর আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলে অমিত শাহ। এদিন বিকেলে সল্টলেকে বিজেপির সদর দপ্তরে দলে যোগ দেন কানাই মণ্ডল। সকলকে হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “কৃষক আন্দোলনের নেতা কানাই মণ্ডল। ভারতীয় জনতা পার্টিকে জেতানোর জন্য তিনি বিজেপিতে যোগদান করছেন। মুর্শিদাবাদে দলে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য তাঁকে কাজে লাগানো হবে।”
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকের শুরু থেকেই ফ্রন্টফুটে খেলেছে বিজেপির নেতৃত্ব। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মালদার ঘটনায় তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেন, “গতকাল তৃণমূল কংগ্রেস এবং তৃণমূল সরকারের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। এসআইআর ১২টি রাজ্যে চলছে। ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করছে তৃণমূল। সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে বিচারপতিরা কাজ করছেন। সেই বিচারপতিদের উপর ১৫ ঘণ্টা ধরে আক্রমণ চলল। কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যাদের মধ্যে অনেক মহিলারা ছিলেন। মুর্শিদাবাদকে এপিক সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মালদাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। চারিদিকে অনুপ্রবেশকারীদের ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের কোনও রাজ্যে হতে পারে। কোন পশ্চিমবঙ্গে বাস করছি? আমাদের জমি কোথায় জমি নেই? পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের ভাবতে হবে তাঁরা কোথায় যাবে। আমরা হিন্দু মুসলমানের রাজনীতি করতে আসিনি। ভারতীয় মুসলমানদের নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। ওপারের বাংলাদেশে যে ঘটনা ঘটেছে এপারেও সেই একই প্রতিফলন। কৃষ্ণনগর মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন স্কুলে পোস্টার পড়েছে মূর্তি পুজো বন্ধ করো। রাজ্যে দাঙ্গা লাগানোর প্রচেষ্টা হচ্ছে। গতকাল নির্বাচনের আগে এই ঘটনা ঘটল। যে রাজ্যে বিচারব্যবস্থা আক্রান্ত হয়, সেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু থাকে না। বিনিয়োগ না আসার অন্যতম কারণ জুডিশিয়াল ব্যবস্থা। বাবা ছেলের বয়সের পার্থক্য ১০ তাঁদের নাম রাখতে হবে। রাস্তা অবরোধ করে দেওয়া হবে। শিশুরা রাস্তার মধ্যে আটকে থাকছে দুধ পায়নি।”
শমীক আরও বলেন, “আমরা এক মাত্র রাজনৈতিক দল থেকে ৮০-এর দশক থেকে বলে আসছি পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশীদের জায়গা নয়। যারা ভোটার লিস্টকে কালিমালিপ্ত করতে চাইবে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিজেপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যারা বারবার বলেছে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হবে না রাজ্যে তাড়ানো হবে দেশ থেকে। দেশের ভোটার তালিকায় নাম থাকবে এই দেশের মানুষদের। যারা কলুষিত করতে চাইছে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে।”
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু বলেন, “গত ৫ বছরে ক্রমাগত জুডিশিয়ারির উপর আক্রমণ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ লোয়ার থেকে আপার জুডিশিয়ারি আক্রান্ত হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে সবথেকে বেশি দেখেছে এই রাজ্য। নন্দীগ্রাম নিয়ে মামলা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু তিনি আর মামলা উত্থাপন করেননি হেরে যাবেন বলে। ৫ লক্ষ টাকা কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে দিতে হয়েছে জরিমানা এমন দেখা যায়নি আগে। গতকাল এসআইআর-এর শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। তৃণমূলের গায়ে লেগেছে খুব কয়েকটা নির্দেশ। সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ট্রাইবুনাল সিদ্ধান্ত নেবে, আর ফর্ম ৬ নিয়ে বলেছে। সুপ্রিম কোর্টকে কাল তৃণমূল আক্রমণ করেছে। যার ফলশ্রুতি সুজাপুর। যেটা কার্যকর করার দায়িত্ব দিয়েছে সাবিনা ইয়াসমিনকে। এটা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই মালদার ঘটনায় পরিকল্পনা করা হয়েছে কলকাতা থেকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে। ধন্যবাদ জানাব কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। তারা ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়েছেন। গতকাল গভীর রাতে তারা মুক্তি দিয়েছেন।”
তাঁর দাবি, “অবিলম্বে সাবিনা ইয়াসমিন-সহ চক্রান্তকারীদের গ্রেপ্তার করা হোক। সিবিআই বা এনআইএ সময় নষ্ট না করে ব্যবস্থা নিক। কারণ, আরজি করের মতো প্রমাণ, নথি নষ্ট করা হবে। অবিলম্বে এই রাষ্ট্রবিরোধী সংবিধান-বিরোধী শক্তিকে হেফাজতে নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আজ বা গতকাল থেকে এ রাজ্যে যা হচ্ছে তা নির্বাচন-বিরোধী।”
শুভেন্দু আরও বলেন, “মেরুকরণের রাজনীতি করি না আমরা। গতকাল নন্দীগ্রামে এক মুসলিম বিজেপি কর্মীকে জল নিতে দেওয়া হয়নি। মসজিদে উঠতে দেওয়া হয়নি। এমন বর্বরতা দেখা গিয়েছে। বিকাশের রাজনীতি করে বিজেপি। ২০২১ সালে আবু তাহের খান ধর্মীয় স্থান ব্যবহার করে প্রচার করেছিলেন। আক্রুজ্জামান এলাকার মহিলাদের বলছেন বিজেপির লোক এলে তাড়িয়ে দেবেন। তৃণমূল উন্নয়নের কথা বলে না ধর্মীয় মেরুকরণের কথা বলে ভোট এলেই।”