বিচারক ঘেরাও কাণ্ডে গ্রেফতার ISF প্রার্থী-সহ ১৮, ফাঁসানোর দাবি নওশাদের দলের
আজ তক | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
ISF candidate arrest: মালদার বিচারক ঘেরাও-কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ পুলিশের। গ্রেফতার হলেন মোথাবাড়ি কেন্দ্রের আইএসএফ প্রার্থী মৌলনা শাহজাহান আলি(Maulana Shahjahan Ali)। এছাড়াও এই ঘটনায় আরও ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকল ধৃতকে মালদা জেলা আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাঁদের ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে আইএসএফ। তাতে এই ঘটনায় মৌলনা শাহজাহান আলির জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। এদিন আদালতে শাহজাহান আলি জানান, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিতই ছিলেন না। একটি জলসা থেকে ফিরছিলেন বলে দাবি করেন। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন আইএসএফ প্রার্থী।
অন্যদিকে সেই সময় কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত ছিলেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। দুপুরের পর থেকেই ব্লক অফিসের সামনে বিক্ষোভকারীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সূত্রের খবর, বিকেল চারটে নাগাদ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে ব্লক অফিস চত্বর। গেট বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং ভিতরে আটকে পড়েন সাত জন বিচারক, যাঁদের মধ্যে তিন জন মহিলা ছিলেন।
প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে ঘেরাও অবস্থায় ছিলেন বিচারকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত রাতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। গভীর রাতে পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁদের ব্লক অফিস থেকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পরই প্রশাসনের ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ মোথাবাড়ির আইএসএফ প্রার্থী মৌলানা শাহজাহান আলিকে গ্রেফতার করে। যদিও গ্রেফতারির পর আদালতে তোলার সময় তিনি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। একটি জলসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁকে আটক করা হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট(Supreme Court of India) মালদার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, 'পশ্চিমবঙ্গে পরিস্থিতি এতটাই রাজনৈতিকভাবে মেরুকৃত যে, প্রশাসনিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়ছে।' বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত।