বিয়ের মাত্র দেড় মাসের মাথায় মর্মান্তিক পরিণতি। স্টার্ট-আপ সংস্থা খুলেছিলেন স্বামী। সেই সংস্থায় লগ্নির জন্য অতিরিক্ত পণের দাবিতে স্ত্রীর উপরে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু করেন তিনি বলে অভিযোগ। আর সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই আত্মঘাতী হয়েছেন স্ত্রী, এমনটাই জানা গিয়েছে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদের সাইবারাবাদ এলাকার মিয়াপুরে। মৃতার নাম ইশিতা যাদব (২৬)। মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তরুণীর স্বামী, নীরজ বনসলকে হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিহারের বাসিন্দা ইশিতার সঙ্গে আলাপ হয়েছিল মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা নীরজের। প্রায় ৫ বছর প্রেম করার পরে, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি পাটনায় দুই পরিবারের উপস্থিতিতে তাঁদের বিয়ে হয়। দু’জনেই ছিলেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। বিয়ের পরে তাঁরা মিয়াপুরের এক অ্যাপার্টমেন্টে থাকা শুরু করেন।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই ইশিতার উপরে অতিরিক্ত পণের দাবিতে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার শুরু করেছিল নীরজ। সম্প্রতি চাকরি ছেড়ে নীরজ নিজে একটি স্টার্ট-আপ সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেখানে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করার জন্য ইশিতার পরিবারকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিল সে। ইশিতা টাকা আনতে অস্বীকার করায় বাড়ে নির্যাতনের মাত্রা।
বুধবার সন্ধ্যায় মিয়াপুরের ওই ফ্ল্যাটের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ইশিতার দেহ উদ্ধার হয়। মিয়াপুর পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ইশিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি FIR দায়ের করা হয়েছে এবং দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গান্ধী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই স্বামী নীরজকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। ঠিক কী কারণে এই চরম পরিণতি, তার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।