বানেশ্বর, ষণ্ডেশ্বর মন্দিরের শিব এবং ডাঙ্গরাই মন্দিরের মদনমোহনকে সাক্ষী রেখে বৃহস্পতিবার সাগরদিঘিতে গিয়ে স্নান করে নৌকাবিহার করানো হলো কোচবিহারের কুলদেবতা মদনমোহনকে। রাজ আমলের রীতি অনুযায়ী, এ ভাবেই প্রায়শ্চিত্ত করে থাকেন তিনি। কোচবিহারের কুল দেবতা মদনমোহনের পুজোয় নানা নিয়ম রয়েছে। বুধবার মদনমোহন মন্দিরে মদনকাম পুজো ছিল। পুজো ঘিরে ভিড় করেছিলেন পুণ্যার্থীরা। এ দিনও মদনমোহনের স্নান দেখতে ভিড় করেছিলে ভক্তরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, কোচবিহারের রাজ আমল থেকে এই নিয়ম পালন করে আসা হচ্ছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, ভোগেও রয়েছে বিশেষত্ব। এ দিনের পুজোয় ভোগ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল চালের গুঁড়ো, দুধ, ভাং ও গাঁজা দিয়ে বানানো বিশেষ নাড়ু, মাংস। কেন এই নিয়ম? কথিত রয়েছে, গাঁজা ও ভাং খেয়ে ভুল করে আমিষ খেয়ে ফেলেছিলেন মদনমোহন দেব। পরে তা বুঝতে পারার পরে তাঁকে প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। তখন থেকে এ ভাবেই প্রথা পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরের মতো এ দিনও সাগরদিঘির পাড়ে ভিড় উপচে পড়েছিল ভক্তদের।
ইতিহাস বলে, কোচবিহারের মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ ভূপ বাহাদুর ১৮৮৯ সালে এই মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তারপরে ১৮৯০ সালে মদনমোহন মন্দিরের উদ্বোধন করেন রাজমাতা নিশিময়ী দেবী। কোচবিহারের বাসিন্দাদের কাছে তো বটেই, উত্তরবঙ্গ ও লাগোয়া রাজ্যের বহু বাসিন্দা মদনমোহন দেবের ভক্ত।