• ফের শুভেন্দুর হাত ধরেই দলবদল, ভোটের মুখে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নবগ্রামের বিধায়ক কানাই মণ্ডল
    এই সময় | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০১৮ সালে সিপিএমে (CPIM) ছিলেন কানাই মণ্ডল। শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে তৃণমূলে (TMC) যোগ দিয়েছিলেন। সেই সময়ে শুভেন্দু ছিলেন তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলার পর্যবেক্ষক। আট বছর পরে ফের দল বদলালেন কানাই। এ বার তিনি তৃণমূল থেকে বিজেপিতে। যাঁর হাত থেকে পতাকা নিলেন, তিনি সেই শুভেন্দু। এ এক অদ্ভূত সমাপতন।

    কানাই মণ্ডল মুর্শিদাবাদের নবগ্রামের বিধায়ক। কিন্তু ছাব্বিশের ভোটে (West Bengal Assembly Election 2026) টিকিট পাননি। শেষে বৃহস্পতিবার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। ১ এপ্রিল নবগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী প্রণব চন্দ্র দাসের সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই দলবদলকে ঘিরে হইচই পড়ে গিয়েছে মুর্শিদাবাদে।

    কয়েক দিন আগেও কানাইকে ‘জমি মাফিয়া’ বলে আক্রমণ করতেন শুভেন্দু। এ দিন তাঁকেই হাতে ধরে বিজেপিতে টেনে নিলেন। কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে বিজেপি সমর্থকরা। তবে বিষয়টাকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না বিজেপির লালবাগ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সৌমেন মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘এতে বিজেপিরই শক্তি বাড়ল। কানাই মণ্ডল প্রবীণ রাজনীতিবিদ। সংগঠন করা মানুষ। তাঁর নিজস্ব ভোট ব্যাঙ্ক রয়েছে। ফলে দল হিসেবে আমাদেরই লাভ হবে।’

    কানাই মণ্ডলের বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় নবগ্রামের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সৃষ্টি হলো বলেও মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে বিজেপির দিলীপ সাহাকে পরাজিত করেছিলেন তিনি। এ বারও দিলীপকেই প্রার্থী করেছে বিজেপি। এক সময়ে যাঁকে হারিয়েছিলেন, এখন তাঁকে জেতানোর জন্যই লড়তে হবে কানাইকে।

    তৃণমূল অবশ্য এই যোগদানকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। তৃণমূলের জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তথা সাংসদ খলিলুর রহমান বলেন, ‘কানাইয়ের নিজস্ব কিছু ভোট রয়েছে, এটা ঠিক। কিন্তু আমাদের সংগঠন যথেষ্ট মজবুত। তার উপরে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে সভা করেন গেলেন, তাতে স্থানীয় বাসিন্দারা খুশি। ভিড়টাই সব বলে দিচ্ছে।’

    কানাইকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি কংগ্রেস। বাংলায় একটি প্রাচীন প্রবাদ মনে করিয়ে দিয়ে নবগ্রাম ব্লক (পূর্ব) কংগ্রেস সভাপতি তথা মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ধীরেন্দ্রনাথ যাদব গুড্ডু বলেন, ‘বিজেপি কর্মীদের অবস্থা বেগতিক। তাঁরা এখন বলছেন, ভূতের ভয়ে চাপলাম গাছে, ভূত বলল, পেলাম কাছে।’

  • Link to this news (এই সময়)