• ‘মুখ্যমন্ত্রীই উস্কানি দিয়েছেন’, মোথাবাড়ির ঘটনায় মমতাকে বেনজির আক্রমণ শুভেন্দুর
    এই সময় | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • মালদার (Malda) মোথাবাড়িতে সাত জন বিচারককে আটক করে রাখার ঘটনায় উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। শুধু আটক করে রাখাই নয়, তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়েও পুলিশের কনভয়ে হামলার চেষ্টা হয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (CM Mamata Banerjee) দিকে আঙুল তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikary)। বৃহস্পতিবার হাওড়ার সালকিয়া থেকে তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের উস্কেছেন। তাঁর জন্যই এই ঘটনা।’ অবশ্য মোথাবাড়ির ঘটনায় পাল্টা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিকে আঙুল তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    এ দিন সালকিয়ায় হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষ্যে মিছিলের আয়োজন করেছিল কয়েকটি হিন্দু সংগঠন। সেখানেই যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন উত্তর হাওড়ার বিজেপি প্রার্থী উমেশ রাই-সহ বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। মিছিল থেকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। কার্যত জনসংযোগ করেন তিনি। তার পরেই মোথাবাড়ি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে।

    মোথাবাড়ির ঘটনা তৃণমূলের পরিকল্পিত চক্রান্ত দাবি করে শুভেন্দু বলেন, ‘পুরো ঘটনাটাই পূর্ব পরিকল্পিত। মুখ্যমন্ত্রী গত কয়েক দিন ধরেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের বিরুদ্ধে মহিলাদের উস্কানি দিচ্ছিলেন। হাতা-খুন্তি নিয়ে নামতে বলছিলেন। তার জন্যই এই ঘটনা ঘটেছে।’

    উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মোথাবাড়ি কেন্দ্রের বিধায়ক। এ দিন তাঁর গ্রেপ্তারির দাবি করে শুভেন্দু বলেন, ‘আগে সাবিনা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করতে হবে। ভিডিয়ো ফুটেজ ধরে ধরে সবাইকে জেলে ঢোকানো উচিত।’ একই সঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের এক আইনজীবীর দিকেও আঙুল তোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘আমি নাম নেব না। ওই আইনজীবী মিম-এর সঙ্গে যুক্ত। তাঁর কী ভূমিকা ছিল সবাই দেখেছে। সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে ওই আইনজীবীকেও গ্রেপ্তার করতে হবে।’

    উল্লেখ্য, SIR-এ সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট খতিয়ে দেখতে জুডিশিয়াল অফিসারদের নিয়োগ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই কাজ চলাকালীনই সাত জন অফিসারকে ঘেরাও করা হয়। তাঁদের প্রায় ৯ ঘণ্টা আটকে রেখে চলে বিক্ষোভ। শেষে বুধবার মাঝরাতে তাঁদের উদ্ধার করে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু সেই সময়েও তাঁদের উপরে হামলার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট। ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি (DGP), মালদহের জেলাশাসক (DM) ও পুলিশ সুপারকে (SP) শোকজ় করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৩ জনকে।

    এই ঘটনার পিছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, ‘অমিত শাহের ইশারায় নির্বাচন কমিশন রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, জেলার পুলিশ সুপারকে বদল করার ফলেই জনতার ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।’ 

  • Link to this news (এই সময়)