এই সময়: ইয়া বড় গর্ত কয়েক জায়গায়। আবার কোথাও কোথাও পিচ উঠে বেরিয়ে পড়েছে কঙ্কালসার চেহারা। উত্তর কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দমদম রোডের এ রকমই অবস্থা। দমদম স্টেশন ও চিড়িয়া মোড়কে যুক্ত করেছে ওই রাস্তা। অথচ দিনের পর দিন, মাসের পর মাস সংস্কারের নামগন্ধ নেই। ফলে, একদিকে যেমন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে, অন্য দিকে প্রায় রোজই তাঁদের সহ্য করতে হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের যন্ত্রণা।
বিটি রোড ও দমদম স্টেশনের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ওই রাস্তা দিয়ে দিনরাত কয়েক হাজার বাস, প্রাইভেট গাড়ি, অটোরিকশা, মোটরবাইক, ট্রাক, মিনি ট্রাক যাতায়াত করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই বসন্তে পর পর কয়েক সপ্তাহ বৃষ্টিতে রাস্তার অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির জল জমে গর্তগুলো হয়ে উঠছে বিপজ্জনক। জল জমে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝা যাচ্ছে না। যার ফলে মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা।
ওই তল্লাটের বাসিন্দা, নিত্যযাত্রী বিপ্লব চৌধুরীর কথায়, ‘অফিস যাওয়ার সময়ে চিড়িয়া মোড় থেকে দমদম স্টেশন যেতে আগে পাঁচ মিনিট লাগত, এখন ২০ মিনিটেও পৌঁছনো যাচ্ছে না। অটোরিকশায় বসলে মনে হয় হাড়গোড় ভেঙে যাবে। রাস্তার যা অবস্থা, তাতে যে কোনও দিন বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’ দমদম রোডে বাড়ি অর্পিতা গুহর। তিনি বলছেন, ‘অটোরিকশায় উঠলেই ভয় করে, এই বুঝি উল্টে গেল! রাস্তার যা অবস্থা, তাতে সুস্থ মানুষও কোমর আর পিঠের ব্যথায় ভুগছে।’ তাঁর সংযোজন, ‘কাজের পরে রাতে দমদম রোড ধরে বাড়ি ফেরার সময়ে সব চেয়ে বেশি ভয়। রাস্তার খানাখন্দগুলো কতটা গভীর, তা বোঝার উপায় নেই। রাস্তার সব আলো জ্বলে না। আমরা কি ট্যাক্স দিই গর্তে পড়ার জন্য?’ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয় অটোরিকশা চালকরাও। তাঁদের বক্তব্য, বেহাল রাস্তার কারণে গাড়ির যন্ত্রপাতি তাড়াতাড়ি খারাপ হচ্ছে, বাড়ছে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ।
বেহাল দমদম রোড নিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। স্থানীয় বিজেপি নেতা অতীন রায় বলেন, ‘পাইপলাইনের কাজের বাহানা দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মুখে ঠেলে দেওয়া তৃণমূলের সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে রাস্তা সংস্কারেরর সময়ে নিচু মানের জিনিস ব্যবহার করা হয়। তাই, সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার কঙ্কাল বেরিয়ে পড়ছে।’ ওই তল্লাটের সিপিএম নেতা পলাশ দাসের অভিযোগ, ‘পুরসভার সঙ্গে অন্যান্য দপ্তরের কোনও সমন্বয় নেই। এক দপ্তর রাস্তা সারায়, তো অন্য দপ্তর এসে পাইপলাইনের জন্য খুঁড়ে দিয়ে যায়। এটা জনগণের করের টাকার চরম অপচয়। দমদম স্টেশন থেকে চিড়িয়া মোড় যাওয়ার এই রাস্তার সংস্কার ভীষণ জরুরি।’
দমদম রোডের ঠিকঠাক সংস্কার কবে হবে?
কলকাতা পুরসভার ১ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান তরুণ সাহা বলেন, ‘পাইপলাইন বসানাের জন্য ওই জায়গায় রাস্তা খোঁড়া হয়েছে। তার জন্যই পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। খুব তাড়াতাড়িই রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু হবে।’ যদিও এই আশ্বাসে ভরসা পাচ্ছেন না ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ। তাঁদের দাবি, তাপ্পি দেওয়ার মতো জোড়াতালি দিয়ে রাস্তা সারাই না–করে পাকাপাকি ভাবে রাস্তার সংস্কার করা হোক।