হরমুজ় প্রণালী (Strait of Hormuz) বন্ধ থাকায় বিশ্ব জুড়ে তেল সঙ্কট তীব্র আকার নিয়েছে। বিপাকে পড়েছে কমবেশি প্রায় সব দেশই। এই আবহে বৃহস্পতিবার হরমুজ় প্রণালী খোলা নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করেছিল ব্রিটেন (Britain)। সেখানেই দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি (Vikram Misri) বলে দিলেন, ‘এই জলপথে একমাত্র ভারতীয় নাবিকরাই প্রাণ হারিয়েছেন।’ একই সঙ্গে অবিলম্বে হরমুজ় খোলার দাবিও জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
অবরুদ্ধ হরমুজ় খুলতে লাগাতার হুমকি দিচ্ছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সরাসরি বলেছেন, ‘ইরানকে অবিলম্বে চুক্তি করতে হবে। না হলে ওদের প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব।’ কিন্তু ইরান অনড়। আমেরিকা এবং তার বন্ধু দেশগুলিকে হরমুজ় দিয়ে এক লিটার তেলও নিয়ে যেতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তারা। শুধু তাই নয়, রীতিমতো হুমকির সুরে বলেছে, ‘এখান দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেব।’
এই আবহে আমেরিকাকে বাদ দিয়েই ভার্চুয়ালি বৈঠকের আয়োজন করেছিল ব্রিটেন। সেখানেই উপস্থিত ছিল ৬০টিরও বেশি দেশ। ব্রিটনের ফরেন সেক্রেটারি ইভেট কুপারের নেতৃত্বে এই বৈঠকে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। সেখানেই ‘ময়ুরী নারী’ নামের পণ্যবাহী জাহাজে হামলার কথা তুলে ধরেন তিনি। সূত্রের খবর, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে জাহাজটি গুজরাট উপকূলে আসছিল। সেই সময়ে আচমকা তার উপরে হামলা হয়। তবে কারা হামলা চালিয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। এই হামলায় তিন জন নাবিকের মৃত্যু হয়েছিল।
বৈঠকের পরে ইরানকে কার্যত কাঠগড়ায় তুলে বিবৃতি দিয়েছে ৬০টি দেশ। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে বিশ্বের অর্থনীতিকে পণবন্দি করার চেষ্টা করছে ইরান। এই ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।’ এই বৈঠককে আপাতত প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরবর্তীতে আরও বৈঠক হবে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার বলেছেন, ‘জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা সহজ কাজ নয়। এর জন্য সামরিক এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপ প্রয়োজন।’
বিবৃতিতে চারটি সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, রাষ্ট্রপুঞ্জ-সহ আন্তর্জাতিক স্তরে ইরানের উপরে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানো, যাতে তারা হরমুজ় প্রণালী খুলে দিতে বাধ্য হয়। দ্বিতীয়ত, প্রয়োজনে ইরানের উপরে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটা। তৃতীয়ত, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের সঙ্গে মিলে আটকে থাকা হাজার হাজার নাবিকদের ছাড়িয়ে পুনরায় জাহাজ চলাচল চালু করা। চতুর্থত, সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করা, যাতে সমুদ্রপথে বাণিজ্য আবার স্বাভাবিক হয়।