• EC-র নিত্য নির্দেশে জেরবার, ভোট ছেড়ে স্কুলেই ফিরতে চান শিক্ষকরা
    এই সময় | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • সোমনাথ মণ্ডল

    ভোট আর এক মাসও বাকি নেই। রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। কিন্তু যাঁরা ভোটগ্রহণ এবং গণনার দিন মুখ্য ভূমিকা নেবেন—সেই শিক্ষক–শিক্ষিকাদের একাংশ কমিশনের নতুন নতুন নির্দেশে বিভ্রান্ত এবং দিশেহারা হয়ে উঠেছেন। এতটাই মানসিক চাপ, ভোটের কাজ থেকে অব্যাহতি নিয়ে স্কুলের পঠনপাঠনের কাজে ফিরতে চেয়ে অনেকেই জেলাশাসকদের অফিসে চিঠি জমা দিতে লম্বা লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। ভোটের ‘ডাবল ডিউটি’ এবং ট্রেনিংয়ের সময়সূচিতে তাঁরা জেরবার।

    গত নভেম্বর থেকে শিক্ষক–শিক্ষিকারা বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)–এর ডিউটি করছেন। এখনও সম্পূর্ণ ভোটার লিস্ট প্রকশিত হয়নি। সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বেরোচ্ছে প্রতি সপ্তাহে। ফলে ‘রিলিজ লেটার’ দেওয়া হয়নি বিএলও–দের। উল্টে, ব্যালট ভোট, ভোটার স্লিপ দেওয়ার মতো অতিরিক্ত কাজের নির্দেশে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন অনেকেই। সম্প্রতি, ডায়মন্ড হারবার–১ ব্লকের এইআরও (পেশায় শিক্ষিকা) মালবিকা রায় ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবার মানসিক চাপের অভিযোগই করেছে।

    অভিযোগ, বিএলও–র ডিউটি চলাকালীন কাউকে ফার্স্ট পোলিং অফিসার, কাউকে সেকেন্ড পোলিং অফিসার হিসাবে ভোটের দিনে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে কমিশনের তরফে। মধ্যমগ্রামের এক বিএলও সুরজিৎ ঘোষের কথায়, ‘একজন ব্যক্তি কী ভাবে একসঙ্গে দু’টি দায়িত্ব সামলাবেন? বিএলও হিসাবে নিয়োগ করার সময়ে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল। বিএলও–র কাজ যদি শেষ হয়ে যায় তা হলে অব্যাহতি বা রিলিজ লেটার তো দিতে হবে? তা না করে সেই ব্যক্তিকেই আবার ভোট পরিচালনার কাজ দেওয়া হচ্ছে কী ভাবে?’

    জটিলতা বাড়ছে ট্রেনিং নিয়েও। যে দিন পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণের দিন ঠিক করা হচ্ছে, কোথাও কোথাও সে দিন আবার বিডিও অফিসে নানা কাজে ডাকা হচ্ছে বিএলও–দের। মালদার একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক তথা বিএলও শেখ মাসুম আখতারের অভিযোগ, ‘যখন অফিসে ব্যালট ভোট সংক্রান্ত ট্রেনিংয়ে ডাকা হচ্ছে, সে দিনই আবার পোলিং অফিসার হিসাবেও ট্রেনিং আসতে বলা হচ্ছে। কোনটা ছেড়ে কোথায় যাবেন, ভেবে পাচ্ছেন না শিক্ষক–শিক্ষিকারা। কয়েক মাস ধরে স্কুলে পড়াশোনা লাটে উঠেছে।’

    একই সুর দমদমের বাসিন্দা বিএলও অনামিকা চক্রবর্তীর গলাতেও। তিনি বলেন, ‘ভোটার তালিকা সংশোধন থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ, এতদিন সবটাই সামলাতে হয়েছে। এখন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের কাজ চলছে। অনেক বুথ এলাকায় হিয়ারিং বাকি। প্রবীণ ও বিশেষ ভাবে সক্ষমদের ব্যালটে ভোট গ্রহণের ডিউটিও দেওয়া হচ্ছে। আমরা কমিশনকে এই সমস্যা নিয়ে জানিয়েছি। শিক্ষক–শিক্ষিকাদের দ্রুত স্কুলে ফেরানো হোক। ’

    অভিযোগ উঠছে, একেবারে শেষ পর্যায়ে অনেক শিক্ষক–শিক্ষিকাকে বিএলও হিসাবে নতুন দায়িত্বও দেওয়া হচ্ছে। ‘স্পেশাল কেস’ হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে। সদ্য নিযুক্ত এমন এক বিএলও–র বক্তব্য, ‘এখন বিভিন্ন স্কুলে পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে। প্রশ্ন তৈরিতে ব্যস্ত শিক্ষক–শিক্ষিকারা। আগ থেকেই অনেকে নির্বাচনের কাজ করছেন। দু’চার জনকে দিয়ে স্কুল চলছিল। এখন যদি তাঁরাও নির্বাচনের কাজে চলে যান তা হলে স্কুল তুলে দেওয়াই ভালো। পড়ুয়াদের কথা কেউ ভাবছেন না।’ শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চর সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘এ ভাবে পরিকল্পনাহীন ভাবে দায়িত্ব চাপিয়ে দিলে শিক্ষা এবং নির্বাচন, দু’ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়তে পারে।’ কমিশন সূত্রে খবর, এই সমস্যা সংক্রান্ত গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • Link to this news (এই সময়)