• ভোটের আগেই তুঙ্গে চাহিদা, শান্তিপুরে নজর কাড়ছে রাজনৈতিক শাড়ি
    এই সময় | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • গৌতম ধোনি, শান্তিপুর

    কোনও শাড়ির জমি জুড়ে জোড়াফুল, কোনওটায় আবার পদ্মের চাষ। সরকারি প্রকল্পের নামও ছাপা কোনও কোনও শাড়িতে। নদিয়ার শান্তিপুরের এই শাড়ি বঙ্গভোটের কথা বলছে। ভোটের বাজারকে শাড়ি বিক্রির মরশুমে পরিণত করতে এমনই 'রাজনৈতিক শাড়ি' বানিয়েছেন শান্তিপুরের শাড়ি ব্যবসায়ী রাজু দাস। তৃণমূলের প্রতীক ছাপা শাড়ি ইতিমধ্যেই ১৫০০ পিস এবং বিজেপির প্রতীক ছাপা শাড়ি প্রথম ধাপে ৫০০ অর্ডার পেয়েছেন বলে দাবি রাজুর। তবে বাম–কংগ্রেস বা অন্য দলের প্রতীক ছাপা কোনও শাড়ির বায়না এখনও আসেনি তাঁর কাছে। রাজুর দাবি, ভোটের হাওয়া মাপতে ঘুরঘুর করা লোকজন লুকিয়ে নজরদারিও চালাচ্ছেন তাঁর উপরে।

    শান্তিপুর তাঁতের শাড়ির জন্য বিখ্যাত। তবে এখন হস্তচালিত তাঁতের (হ্যান্ডলুম) পাশে যন্ত্রচালিত তাঁতের (পাওয়ারলুম) শাড়িও উৎপাদন হয়। শান্তিপুরের থানার মোড় দেশবন্ধুপল্লির শাড়ি ব্যবসায়ী রাজু ভোটের সময়কে ব্যবসার মন্দাবাজার বলতে নারাজ। নিজের ভাবনা থেকেই 'রাজনৈতিক শাড়ি' তৈরি করে বাজার ধরছেন তিনি। তিনি বলেন, '২০১৬–র বিধানসভা ভোটের সময়ে প্রথম এই ভাবনা মাথায় আসে। ২০২১–এর বিধানসভা ভোটের সময়েও বিভিন্ন দলের প্রতীক ছাপা শাড়ি তৈরি করে বাজার ধরেছিলাম। এ বার ডিজ়াইনটা আরও ভালো করেছি। কম্পিউটার নকশা করে দিয়েছেন বন্ধু শুভজিৎ রায়। নদিয়ায় ভোট দ্বিতীয় দফায়। অর্থাৎ কলকাতা–হাওড়া ও কয়েকটি জেলার সঙ্গে। হাতে এখনও যা সময় আছে, অর্ডার এলেই দিনে সর্বাধিক ৪০০ শাড়ি তৈরির লোকবল রেখেছি।'

    রাজু বলেন, 'হাতে বোনা তাঁতের শাড়ি নয়। ভোটের বাজারে সুতির ছাপা শাড়ি তৈরি করছি। স্ক্রিন প্রিন্ট যে ভাবে করা হয়, একই কায়দায় সুতির থানে বিভিন্ন দলের প্রতীক বা সরকারি প্রকল্পের লোগো ইত্যাদির নকশা ছেপে শাড়ি তৈরি করছি। ছাপছি বলে বুননের তুলনায় অনেক কম সময় লাগছে। কোনও দলের সাধারণ কর্মী–সমর্থক মহিলারা যাতে এই শাড়ি কিনতে পারেন, তাই দামও কম করেছি। নকশা কমবেশির হিসেবে শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ২৫০–৩৫০ টাকায়।'

    তৃণমূলের মহিলা সংগঠনের শান্তিপুর 'বি' সাংগঠনিক ব্লকের সভানেত্রী চন্দনা রায় বলেন, 'গরম বলে হালকা সুতির শাড়ি পরেই আমরা প্রচার করছি। দলের প্রতীক ছাপা বা রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের নাম ছাপা শাড়ি শান্তিপুরেই তৈরি হচ্ছে শুনেছি। এতে প্রচার করতে সুবিধেই হবে আমাদের।' অন্য দিকে, শান্তিপুরের হরিপুর গ্রামের বিজেপির এক মহিলা কর্মী শিলা হালদার বলেন, 'একই রকম শাড়ি পরে একসঙ্গে বের হলে এমনিতেই ভালো লাগে। দলের প্রার্থীর প্রচারে দলের প্রতীক ছাপা শাড়ি পরলে তো আরও ভালো হবে।'

  • Link to this news (এই সময়)