চিংড়িঘাটায় বহু প্রতীক্ষিত নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো করিডরের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করার নির্দিষ্ট দিনক্ষণ অবশেষে ঠিক হল। আগামী ১৭ থেকে ১৯ মে, এই তিন রাতেই ‘মিসিং লিঙ্ক’ বা সংযোগকারী সেতুর ফাঁকা অংশ জোড়া লাগানোর কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, চিংড়িঘাটা অংশে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই সংযোগের কাজ রাতের মধ্যেই সেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিদিন মাঝরাত থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কাজ চলবে, যাতে দিনের বেলায় যান চলাচলে বড় কোনও প্রভাব না পড়ে।
লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পের দায়িত্বে সংস্থা রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)-এর কর্তাদের ইতিমধ্যেই এই সময়সূচি অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। খুব শিগগিরই এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করা হবে। তবে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, যদি কোনও অপ্রত্যাশিত বা জটিল পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তবেই নির্ধারিত সময়সূচি মেনে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
সময়সূচি নির্ধারণের পিছনে রয়েছে বেশ কিছু বাস্তব কারণ। ৪ মে পর্যন্ত নির্বাচন ও ফলাফল ঘোষণাকে ঘিরে পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত ব্যস্ত থাকবে। তার পরবর্তী সময়েও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকবে। অন্যদিকে, মে মাসের মাঝামাঝি স্কুলগুলিতে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হওয়ায় ইএম বাইপাসে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমে যাবে। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে ১৭ মে থেকে কাজ শুরু করে ১৯ মে-র মধ্যেই তা শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত মার্চ মাসে সুপ্রিম কোর্ট এই প্রকল্পে বিলম্ব নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছিল। আদালত একে 'সাংবিধানিক দায়িত্বে চরম অবহেলা' বলে মন্তব্য করে এবং জনস্বার্থমূলক প্রকল্পকে রাজনৈতিক কারণে আটকে রাখার প্রবণতার বিরুদ্ধেও সরব হয়। রাজ্যের তরফে নির্বাচনী আচরণবিধি ও যানজটের আশঙ্কার যুক্তি দেওয়া হলেও আদালত তা গ্রহণ করেনি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাজের প্রথম ধাপে ইএম বাইপাসের পশ্চিম দিকের স্তম্ভগুলির ওপর সংযোগ স্থাপন করা হবে, যা বেলেঘাটা ও উল্টোডাঙ্গামুখী যান চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই ধাপটি ১৮ মে-র মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে পূর্ব দিকের স্তম্ভগুলির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে ১৯ মে-র মধ্যেই পুরো কাজ সম্পূর্ণ করার কথা।
যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা অফিসাররা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য প্রভাব বোঝার জন্য একাধিকবার ট্রাফিক ট্রায়াল করা হয়েছে। অন্যদিকে, আরভিএনএল জানিয়েছে, তারা আনুষ্ঠানিক নির্দেশ পেলেই কর্মী ও যন্ত্রপাতি মোতায়েনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করবে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের জট কাটিয়ে এবার বাস্তবের পথে এগোচ্ছে নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো প্রকল্পের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখন শুধু নির্ধারিত সময়সূচি মেনে কাজ সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা।