অন্ধ্রের নির্বাচনে মধ্যরাতে ৬ সেকেন্ড করে ব্যবধানে পড়েছে ১৭ লক্ষ ভোট, বিস্ফোরক অভিযোগ নির্মলা সীতারামনের স্বামীর
বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
নয়াদিল্লি: একই ব্যক্তি। কিন্তু ভিন্ন এপিক নম্বরে নাম রয়েছে বাংলা ও বিহার— দুই রাজ্যের ভোটার তালিকায়। ২৪ ঘণ্টা আগেই এমন একাধিক ‘সন্দেহজনক ভোটার’ নিয়ে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। ইতিপূর্বে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর গলায় এমনই ‘ভোটচুরি’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। আর এবার পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যের ভোটের ঠিক আগে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের স্বামী অর্থনীতিবিদ পরকলা প্রভাকর। দুদিন আগে দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে রকেটের গতিতে প্রায় ১৭ লক্ষ ভোট নথিভুক্ত করা হয়েছে মধ্যরাতের পর। প্রতিটি ভোটদানে সময় লেগেছে মাত্র ৬ সেকেন্ড করে! কোন ‘জাদুবলে’ তা সম্ভব হল? ঘটনাচক্রে, দু’বছর আগে অন্ধ্রপ্রদেশের বিধানসভা ভোটে বিশাল জয় পেয়েছিল চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ শিবির। ১৭৫টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৬৪টি আসনই তাদের ঝুলিতে যায়। কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বর্তমান সরকার টিকে রয়েছে যে দুই ‘ক্রাচে’ ভর দিয়ে, তার মধ্যে একজন চন্দ্রবাবু। সেই চন্দ্রবাবুর রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফল নিয়ে নির্মলা সীতারামনের স্বামীর তোলা অভিযোগকে অবশ্য গুরুত্ব নিতে নারাজ কমিশন। যদিও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় দেশজুড়ে ভোটের ফলাফল ‘অডিটে’র দাবি তুলেছেন প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি। প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের দাবি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বুথে ভোটদানের হিসাব থাকা ১৭সি ফর্ম প্রকাশ্যে আনা এবং ভিভিপ্যাট স্লিপ গণনা বাধ্যতামূলক করা হোক।
অন্ধ্রের নির্বাচন নিয়ে প্রভাকরের অভিযোগ, বিকেল পাঁচটা নয়, রাজ্যজুড়ে ৩ হাজার ৫০০ বুথে ভোটদান জারি ছিল রাত দুটো পর্যন্ত। মোট ভোটের প্রায় ৪.১৬ শতাংশ ভোটদান হয়েছে রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত দুটো পর্যন্ত। রাত ৮টা থেকে দুটো পর্যন্ত রেকর্ড রয়েছে ৫২ লক্ষ ভোট। তারমধ্যে মধ্যরাতের পর ভোটদান হয়েছে ১৭ লক্ষের বেশি। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয়
হল, মধ্যরাতের পর দুটি
ভোটদানের মধ্যে ব্যবধান ছিল ২০ সেকেন্ড করে। কিন্তু ভোটযন্ত্র রিস্টার্ট হতেই তো সময় লাগে ১৪
সেকেন্ড। এর অর্থ প্রতিটি ভোটদানে সময় লেগেছে মাত্র ৬ সেকেন্ড করে। বাস্তবে কি কোনো ভোটারের পক্ষে মাত্র ৬ সেকেন্ডের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে ভোটদান করে বাইরে বেরিয়ে আসা সম্ভব? রাত ৮টার পর নিশ্চিতভাবেই ‘অস্বাভাবিক’ কিছু ঘটেছিল।
২০২৪ সালের ১৩ মে বিকেল পাঁচটায় ভোটদান শেষের পর অন্ধ্রের প্রধান নির্বাচনি অফিসার (সিইও) জানিয়েছিলেন, ভোটদানের হার ৬৮.০৪ শতাংশ। রাত ৮টায় তা আপডেট করে বলা হয়, ৬৮.১২ শতাংশ। রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে কমিশন জানায়, ৭৬.৫০ শতাংশ ভোট পড়েছে। চারদিন পর আবার তারা বলে, ভোটদানের চূড়ান্ত হার ৮১.৭৯ শতাংশ। যদিও এই ‘অসংগতি’ প্রসঙ্গে কমিশন সূত্রে বলা হয়েছে, অন্ধ্রের কোনো প্রার্থীই কোনো অভিযোগ তোলেননি। আদালতে যাওয়ার রাস্তাও খোলা ছিল। কিন্তু ফলপ্রকাশের দুবছর পর এধরনের অভিযোগ তোলা ‘অসাংবিধানিক’।