• ‘আদিবাসী ক্রীড়া প্রতিভা জাতীয় গর্ব’
    বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • দ্রৌপদী মুর্মু (রাষ্ট্রপতি): গ্রামাঞ্চলে বা জঙ্গল অধ্যুষিত এলাকার শিশুদের মধ্যে একটা বিশেষত্ব রয়েছে। তারা খেলার নানা সহজ উপায় খুঁজে বের করে। সবার জার্সি বা জুতো না থাকলেও মাঠে দাগ কেটে, বাঁশ দিয়ে গোলপোস্ট তৈরি করে চলে হকি ও ফুটবল খেলা। সেই খেলার বল তৈরি হয় শুকনো পাতা, গাছের শিকড় ও ছেঁড়া কাপড় দিয়ে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তারা নিজস্ব খেলার জগৎ তৈরি করে। গ্রামে অনেকেই নিয়মিত পুকুরে সাঁতার কাটে। তাদের এই সহজাত সাঁতারের প্রতিভাকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকশিত হওয়ার ফলেই জাজপুরের ১৫ বছর বয়সি অঞ্জলি মুন্ডা প্রথম ‘খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর প্রথম দিনেই তিনটি স্বর্ণপদক জিতেছে।

    বছর কয়েক আগেও ছবিটা ছিল একেবারে আলাদা। দেশের যাবতীয় উন্নত ক্রীড়া ব্যবস্থাগুলি শুধু মহানগরগুলিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন একলব্য আবাসিক মডেল স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের খেলাধুলায় উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। ‘খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমস’-এর মতো উদ্যোগের মধ্যে দিয়ে আদিবাসী প্রতিভারা প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন। ফলে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। সম্প্রতি বস্তার ও সুরগুজা অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রতিযোগিতাগুলিতে ৭ লক্ষেরও বেশি ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন তরুণ মাওবাদের পথ ছেড়ে খেলার মধ্যে দিয়ে মূল স্রোতে ফিরে এসেছেন। দেশের যুব সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে আদিবাসী যুবক-যুবতীদের ক্রীড়া প্রতিভা আমাদের জাতির অমূল্য সামাজিক সম্পদ।
  • Link to this news (বর্তমান)