নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যুত করার আবেদন জানিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সেই নোটিস গ্রহণ না করায় প্রবল ক্ষুব্ধ বাংলার শাসকদল।
যে নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে লোকসভা-রাজ্যসভা মিলিয়ে ১৯৩ জন সাংসদ সই করে চিঠি জমা দিয়েছেন, তার কি কোনো গুরুত্ব নেই বলে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। তিনি বলেন, ‘সংসদকে হত্যা করেছে মোদি-শাহর বিজেপি। গণতন্ত্র বিপন্ন। গত ১২ মার্চ লোকসভা এবং রাজ্যসভার সচিবালয়ে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রমাণ সহ অভিযোগ জানানো হয়েছে। অথচ এখনো পর্যন্ত কিছুই জানানো হয়নি। সংসদের বুকে ছুরি মারছেন মোদি-শাহ। এখন দৃষ্টি ঘোরাতে মহিলা সংরক্ষণ আইনের নতুন বিল আনার নাটক করছেন।’
ঘাসফুল শিবির জানিয়েছে, এর আগে চারটি ক্ষেত্রে পদচ্যুত করার ঘটনায় সাংসদদের আবেদন জমা পড়ার কয়েকদিনের মধ্যেই সাড়া মিলেছিল। বিচারপতি ভি রামাস্বামী মামলায় ১৯৯১ সালের ১২ মার্চ তৎকালীন লোকসভার স্পিকার রবি রায় মোশন গ্রহণ করে তদন্ত কমিটি গড়েছিলেন। ২০০৯ সালে বিচারপতি সৌমিত্র সেনকে পদচ্যুত করার মামলায় রাজ্যসভায় নোটিস জমা পড়েছিল ২০ ফেব্রুয়ারি। সাতদিনের মাথায় তা গৃহীত হয়। একইভাবে ২০০৯ সালেই বিচারপতি পি ডি দিনাকরণের মামলায় ১৪ ডিসেম্বর জমা পড়েছিল নোটিস। তিনদিনের মধ্যে তা গ্রহণ করেছিলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর ক্ষেত্রে ২০ এপ্রিল চিঠি জমা করা হয়েছিল। কিন্তু ২৩ এপ্রিল রাজ্যসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু তা বাতিল করেছিলেন। অথচ জ্ঞানেশ কুমারের ক্ষেত্রে গৃহীত অথবা বাতিল, কিছুই এখনো জানানো হয়নি।