• মালদহ নিয়ে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট, কমিশনের বসানো মুখ্যসচিব, ডিজি, ডিএমকে শোকজ
    বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: সাতজন বিচারককে দিনভর ঘেরাও-হেনস্তা! মালদহের কালিয়াচকে বুধবার যা ঘটেছে, তাতে প্রবল ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট। কেন এমন ঘটনা ঘটল? উপযুক্ত ব্যবস্থাই বা নেওয়া হল না কেন? সেই প্রশ্ন তুলে শোকজ করা হল ভোটপর্বে নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, মালদহের জেলাশাসক এবং জেলা পুলিশ সুপারকে। তাঁদের লিখিতভাবে জবাবদিহি করতে হবে শীর্ষ আদালতে। এমনকি, আগামী সোমবার ৬ এপ্রিল এসআইআর মামলার শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিতও থাকতে হবে। বৃহস্পতিবার এমনই নির্দেশ দিয়েছে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ।

    সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থানকে সমর্থন করেছে রাজ্য সরকারও। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সমালোচনা বলে চালানো হচ্ছিল। গোটা ঘটনায় রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলার মরিয়া চেষ্টা চালান কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু। কিন্তু রা঩জ্যের আইনজীবী কপিল সিবাল, মানেকা গুরুস্বামী, শংকরনারায়ণনরা জানিয়ে দেন, ‘ওরা নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ করা অফিসার, রাজ্য সরকারের নয়। তাই কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে কমিশন নিযুক্ত মুখ্যসচিব, ডিজিপি, জেলাশাসককে ব্যক্তিগতভাবেই জবাবদিহি পেশ করতে হবে।’ রা঩জ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগের সুরে বলেন, ‘প্রতিদিন প্ররোচনামূলক মন্তব্য করছে নির্বাচন কমিশন। ১৫ মার্চের পর থেকে রাজ্য প্রশাসনের সব কিছুর দখল নিয়েছে তারা। তাই আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় এক ও একমাত্র নির্বাচন কমিশনের। তাদের বাছাই করা অফিসাররা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।’ 

    যদিও প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ওঁরা তো আর অন্য কোনো দেশ থেকে আসেননি। বাংলা‌রই অফিসার।’ পালটা আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী এবং শংকরনারায়ণনের সওয়াল, ‘ওঁরা কমিশনের নিয়োগ করা। কমিশন নিযুক্ত মুখ্যসচিব কেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ফোন ধরেননি? কেন দেওয়া হয়নি হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার? এটা মোটেই বাঞ্ছনীয় নয়। তাই কমিশনের নিযুক্ত ওই অফিসারদেরই ব্যক্তিগতভাবে জবাবদিহি করতে হবে।’

    এদিন সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর নিয়ে কোনো মামলার শুনানি ছিল না। কিন্তু কালিয়াচকের অপ্রীতিকর ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেন দেশের প্রধান বিচারপতি। শুনানিতে জানান, তিনি নিজে রাত ২টো পর্যন্ত পরিস্থিতির উপর নজরদারি করেছেন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সমন্বয় করে আটকে থাকা বিচারকদের উদ্ধার করেছেন। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুপুর সাড়ে তিনটে থেকে তিন মহিলা সহ সাত বিচারবিভাগীয় অফিসার আটকে। অথচ তাঁদের উদ্ধার করতে কেউ যায়নি? রাত ১১ টা পর্যন্ত জেলাশাসক সেখানে উপস্থিতই হননি। মুখ্যসচিব ফোন ধরেননি। কোনো হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দেননি। এটা খুবই দুঃখজনক!’ এরপরই সিবিআই কিংবা এনআইএ-কে দিয়ে গোটা ঘটনার তদন্ত করানোর নির্দেশ দেওয়া হয় কমিশনকে। একইসঙ্গে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতেও বলা হয়। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, সব জেলাশাসক, এসপিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, ‘বিচারাধীন’দের নিষ্পত্তি যেখানে হচ্ছে, সেখানে পাঁচজনের বেশি যেন ভিড় না হয়।
  • Link to this news (বর্তমান)