• কী অপরাধ? আক্ষেপ ৬৫ বছরের বিচারাধীন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকের
    বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • মঙ্গল ঘোষ, পুরাতন মালদহ: কারও কাছে সদুত্তর নেই। বাড়ছে বিভ্রান্তি-ছটফটানি।স্বাধীনতার আগে থেকে পুরাতন মালদহ ব্লকের মঙ্গলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের বলাতুলি গ্রামে বাস করছেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মহম্মদ আব্দুর রউফের পূর্ব পুরুষেরা। তারপর থেকে স্থায়ী বাসিন্দা ওই গ্রামের। ২০০২ সালের এসআইআরের সময় ভোটের লিস্টে নাম জ্বলজ্বল করছে ৬৫ বছরের আব্দুরের। রয়েছে ভারতীয় পাসপোর্ট। পেনশনও পাচ্ছেন। তবুও তিনি বিচারাধীন।  বৃহস্পতিবার ওই প্রাক্তন শিক্ষক মঙ্গলবাড়িতে এসআইআর নিয়ে আন্দোলনে গ্রামবাসীদের সঙ্গে শামিল হয়ে প্রশ্ন করলেন-আমার অপরাধ কী? 

    মালদহের অতিরিক্ত জেলাশাসক শেখ আনসার আহমেদকে সমস্যার কথা বিস্তারিত জানান তিনি। আশ্বাস মিললেও নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না কিছুতেই। এরপর কী হবে? সেসব ভেবে আর ঘুম আসছে না তাঁর। আক্ষেপের সুরে বললেন, আমার নাম মহম্মদ আব্দুর রউফ। ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে রয়েছে আলি আব্দুর রউফ। নামের আগে আলি হবে না। নির্বাচন কমিশন ভুল করেছে, আর আমাকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সব শুনে অতিরিক্ত জেলাশাসক বলেন, ওই শিক্ষকের সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তারাই খতিয়ে দেখবে।

    ওই প্রাক্তন শিক্ষক মঙ্গলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৬১ নম্বর পার্টের ভোটার। মালদহ সার্কেলের বলাতুলি কালুয়ারি মহম্মদ মুসা হাইস্কুলে চাকরি করতেন। ১৯৮৯ থেকে ২০২০ পর্যন্ত টাকা তিন দশক প্রধান শিক্ষক ছিলেন বলে জানিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী এসআইআরের ফর্ম পূরণ করেন এবং জমা দেন। এরপর হিয়ারিংয়ে অংশ নিয়ে সব তথ্য দেন। তারপরেও তাঁর নাম বিচারাধীন। আব্দুর বলেন,নির্বাচন কমিশন বলেছিল ২০০২ সালের লিস্টে নাম থাকলে কোনো সমস্যা নেই। আমরা নাম ওই তালিকায় রয়েছে, তবুও বিচারাধীন। আমি কী অপরাধ করেছি? সংখ্যালঘু হওয়াই কি আমার অপরাধ?

    এরপরেই বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে তোপ দাগেন বৃদ্ধ আব্দুর। বলেন। আমরা সব বুঝি। এসব বিজেপির অঙ্গুলিহেলনেই হয়েছে। আমাদের ভোট দিতে না দেওয়ার সবরকম চেষ্টা হচ্ছে।

    স্থানীয় বিজেপির মণ্ডল সভাপতি শঙ্কর মণ্ডল বলেন, এসব আমাদের দল  করতে যাবে কেন? উনি এতদিন ধরে বসবাস করছেন, নথি ভুল থাকার জন্য এমন হয়েছে। বিজেপিকে আক্রমণ করে তৃণমূলের পুরাতন মালদহ ব্লক সভাপতি সুদীপ্ত রায় পালটা বলেন, তৃণমূলকে যে কোনোভাবে আটকাতে হবে-এটাই বিজেপির প্ল্যান। সেজন্য নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি একসঙ্গে মানুষকে হেনস্তা করছে। কারণ ছাড়াই কেটে দিচ্ছে বৈধ ভোটারদের নাম। মানুষ ঠিক এর জবাব দেবে।  অতিরিক্ত জেলাশাসককে সমস্যার কথা জানাচ্ছেন প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মহম্মদ আব্দুর রউফ।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)