ভুটানের ডলোমাইট মিশ্রিত জলে অনুর্বর হচ্ছে কৃষিজমি, মুক্তি চান কালচিনিবাসী
বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: ভুটান সীমান্ত ঘেঁষে আলিপুরদুয়ারের চা বলয় কেন্দ্রিক অন্যতম বিধানসভা কেন্দ্র কালচিনি। ২২টি চা বাগান, পাহাড়, বক্সার জঙ্গল, পর্যটন সার্কিট, বাসরা, পানা ও তোর্সা নদী দিয়ে ঘেরা এই বিধানসভা আসনটি। ২০২১ সালে কালচিনি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথম খাতা খুলেছিল বিজেপি। পদ্মের প্রতীকে জিতে বিধায়ক হন বিশাল লামা।
কালচিনি বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা ভুটান থেকে নেমে আসা নদী ও পাহাড়ি ঝোরার ভাঙন। প্রতিবছর বাসরা, পানা, তোর্সা, গোবরজ্যোতি ও হাসিমারা ঝোরার ভাঙনে কৃষি, চা বাগান ও বনাঞ্চলের জমি তলিয়ে যায়। নদী-ঝোরা দিয়ে বয়ে আসা ভুটানের ডলোমাইটে নষ্ট হচ্ছে কালচিনির জমি। ঠিক এই আবহে গত পাঁচ বছরে কালচিনির বিধায়ক কি কি উন্নয়ন কাজ করলেন এবার তার হিসাব দিচ্ছেন তিনি।
কালচিনির এমএলও তাঁর বিধায়ক তহবিলের ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। যদিও বিধায়ক বলছেন, তারমধ্যে সামান্য কিছু অর্থ এখনও পড়ে আছে। সেই সামান্য অর্থের কিছু কাজের প্রস্তাব জমা দেওয়া আছে। যদিও বিরোধীরা বলছেন, পাঁচ বছরে গেরুয়া শিবিরের বিধায়ক চোখে পড়ার মতো উল্লেখযোগ্য কোনো কাজই করতে পারেননি। তৃণমূলের দাবি, এমএলএ হিসাবে বিজেপি বিধায়ক সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
চা ও পর্যটন শিল্প কালচিনির প্রধান অর্থনীতি। চা বাগান ও পর্যটনের উন্নয়নে বিধায়ক কিছুই করতে পারেননি। বর্ষায় গোবরজ্যোতি, তোর্সা নদী ও হাসিমারা ঝোরা দিয়ে নেমে আসা ভুটানের ডলোমাইট জয়গাঁ ডেভেলপমেন্ট অথরিটিভুক্ত জয়গাঁ-১, ২ ও দলসিংপাড়া পঞ্চায়েত এলাকার বাড়ি বাড়ি ঢুকে যায়। সেই ডলোমাইট সরাতে হয় জেডিএ কর্তৃপক্ষকেই। সেখানে বিধায়কের কোনো অবদান নেই।
যদিও বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য, পথবাতি, হাইমাস্ট, মুক্তমঞ্চ, স্কুলের সীমানা প্রাচীর, কংক্রিট ব্লকের রাস্তা, পানীয় জলের জন্য ডিপ টিউবওয়েল, স্কুলে স্মার্ট ক্লাস সহ অসংখ্য উন্নয়ন কাজে তিনি টাকা দিয়েছেন। এলাকার বাসিন্দা তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, উন্নয়নের কাজে সম্পূর্ণ ব্যর্থ বিজেপি বিধায়ক বিশাল লামা। আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলছি গত পাঁচ বছরে বিধায়ক এই বিধানসভা এলাকায় নজরে পড়ার মতো উল্লেখযোগ্য কোনো কাজই করেননি। নদী ভাঙন, পর্যটন, চা শিল্পের জন্য তিনি কি কাজ করেছেন লিফলেট ছাপিয়ে মানুষকে জানান। চা শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প তো রাজ্য সরকারই চালু করছে।
এদিকে, কালচিনির সাধারণ মানুষের দাবি, ভুটানের জলে এলাকার কৃষি, চা ও বনাঞ্চলের জমি বাঁচাতে ভারত-ভুটান যৌথ নদী কমিশন গঠন জরুরি। তারজন্য এলাকার বিধায়ক কেন্দ্রের সঙ্গে কোনো দিন কথা বলেননি। কারণ দুই দেশের নদী কমিশন গঠন ছাড়া বিধানসভা এলাকায় নদী ভাঙন ও ডলোমাইট আসা বন্ধ করা অসম্ভব। যদিও এমএলএ বিশাল লামার পালটা দাবি, পথবাতি, হাইমাস্ট, রাস্তা, স্কুলের প্রাচীর, স্মার্ট ক্লাসরুম সহ নানা কাজের জন্য টাকা দিয়েছি। কয়েকটি মুক্তমঞ্চ ও শ্মশানঘাট তৈরিতেও টাকা দিয়েছি। এসব উন্নয়ন বিরোধীদের চোখে পড়ছে না। আর ভারত-ভুটান নদী কমিশন গঠন? এনিয়ে দায় এড়াতে বিজেপি বিধায়কের সাফাই, ওটা তো বৈদেশিক বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় রাজ্যকেই এনিয়ে উদ্যোগী হতে হবে।