• প্রচারে বেরিয়ে পড়ালেন শিশুদের, চা শ্রমিকদের জড়িয়ে ধরলেন স্বপ্না
    বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ব্রতীন দাস, সরস্বতীপুর (রাজগঞ্জ): বাবার অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণে প্রচারে নামতে কিছুটা দেরি হয়েছে। তাই বাড়তি সময় দিয়ে সেই খামতি পূরণে মরিয়া এশিয়াডে সোনাজয়ী স্বপ্না বর্মন। বরাবর তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা অভ্যাস তাঁর। একসময় ভোরের আলো ফুটতেই সাইকেলে কিংবা বাবার ভ্যানরিকশ চেপে পাহাড়পুর পঞ্চায়েতের ঢিংপাড়ার বাড়ি থেকে প্র্যাকটিসে চলে আসতেন জলপাইগুড়ি সাইয়ের মাঠে। সেই অভ্যাস কাজে দিচ্ছে ভোটের ময়দানে। রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মন সাতসকালেই বেরিয়ে পড়ছেন জনসংযোগে। হাঁটতে পারেন মাইলের পর মাইল। সঙ্গে গাড়ি থাকলেও বেশিরভাগ পথ হেঁটেই পৌঁছে যাচ্ছেন প্রত্যন্ত গ্রামে। কখনও চা বাগানে। মন দিয়ে শুনছেন মানুষের কথা। সঙ্গে থাকা ডায়েরিতে নোট করছেন। শিশুদের পড়াচ্ছেন। খেলাধুলোয় উৎসাহিত করছেন। চা শ্রমিকদের বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলছেন, আমি নেতা হতে আসিনি। আমি আপনাদের ঘরের মেয়ে। খেলা ছেড়ে, রেলের চাকরি ছেড়ে আপনাদের দুয়ারে এসেছি, শুধুমাত্র আপনাদের পাশে থাকব বলে। আপনারা যখনই ডাকবেন, আমাকে পাবেন। এলাকার বেশিরভাগ মানুষ রাজবংশী। তাঁদের মুখের ভাষাতেই কথা বলে মন পাওয়ার চেষ্টায় মরিয়া ‘চ্যাম্পিয়ন’।

    বৃহস্পতিবার বাবা পঞ্চানন বর্মনের শ্রাদ্ধানুষ্ঠান ছিল। সেখানেও থাকতে পারেননি। রাতে পানিকৌড়ি এলাকায় ডোর টু ডোর প্রচারের ফাঁকে স্বপ্না বলেন, বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে থাকতে না পারায় খারাপ লাগছিল। কিন্তু দল আমাকে অনেক বড় দায়িত্ব দিয়েছে। সেটা এখন আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাবার আশীর্বাদ আমার সঙ্গে সবসময় আছে, এটা জানি আমি।

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ স্বপ্না। এদিন প্রচারের ফাঁকে ‘শিক্ষিকা’র ভূমিকাতেও দেখা গেল তাঁকে। সরস্বতীপুর বাগানে জনসংযোগ সেরে স্থানীয় একটি গির্জায় যান তিনি। সেখানে কচিকাঁচাদের পড়তে দেখে বসে পড়েন তাদের পাশে। শিশুরা কেমন পড়াশোনা করছে, খোঁজ নেন। ছড়া শোনান। চা বাগানের ছেলেমেয়েদের উৎসাহিত করেন খেলাধুলোয়। নিজের জীবনের লড়াই তুলে ধরে বলেন, আমিও তোমাদের মতো ঘরের মেয়ে। অনেক কষ্ট করে বাবা-মা আমাকে পড়াশোনা শিখিয়েছেন। মাঠে পাঠিয়েছেন। আমার জেদ ছিল চ্যাম্পিয়ন হব। হয়েছি। তোমরাও পারবে। মাঠে যাও। টার্গেট স্থির রেখে কঠোর অনুশীলন চালিয়ে যাও, সাফল্য আসবেই।

    সরস্বতীপুর চা বাগানে স্বপ্নাকে পেয়ে মেতে ওঠেন মহিলারা। তৃণমূল প্রার্থীও তাঁদের বুকে জড়িয়ে ধরেন। শিকারপুর ও মদনবাড়ি চা বাগানে প্রচার চালান স্বপ্না। সন্ধ্যায় তিনি চলে আসেন পানিকৌড়িতে। • রাজগঞ্জে শিশুদের পড়াচ্ছেন স্বপ্না বর্মন। - নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)