‘ভোটকে সামনে রেখে নোংরা খেলা খেলছে’, বিজেপির দুই দালাল সিপিএম, কংগ্রেসকে ক্ষমা নয়: মমতা
বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
সন্দীপন দত্ত, মালদহ: মালদহে ভাগাভাগির রাজনীতি করে কংগ্রেস এবং বিজেপি। লোকসভা ভোট এলেই তারা আসন ভাগ করে নেয়। বিজেপির দালাল সঙ্গী কংগ্রেস, সিপিএমকে ক্ষমা করবেন না। বৃহস্পতিবার মালদহের বৈষ্ণবনগরের দলীয় প্রার্থী চন্দনা সরকারের সমর্থনে জনসভা এই মন্তব্য করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈষ্ণবনগরের চরি অনন্তপুর আইটিআই সংলগ্ন মাঠে দাঁড়িয়ে বিজেপি-কংগ্রেস ও সিপিএমকে একযোগে তুলোধোনা করেন তিনি। এদিন দুপুর দেড়টা নাগাদ মুর্শিদাবাদ থেকে মমতার হেলিকপ্টার বৈষ্ণবনগরে এসে পৌঁছয়। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া চরিঅনন্তপুরে মমতাকে একবার দেখার জন্য কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ছুটে আসে।
এদিন মঞ্চে উঠেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যখন এসআইআর শুরু হয়েছিল, সব মানুষকে লাইনে গিয়ে দাঁড়াতে হয়েছিল। তখন কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের বিএলএ ১ ও ২ আর তৃণমূলের ক্যাম্প ছাড়া রাস্তায় কেউ ছিল না। অন্য দলগুলি নাকে তেল দিয়ে ঘুমোচ্ছিল। কাউকে কোনো সাহায্য করেনি। আজ ভোটকে সামনে রেখে নোংরা খেলা খেলছে।
মালদহের মোথাবাড়িতে বিচারকদের মধ্যরাত পর্যন্ত আটকে রাখার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, দয়া করে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এরকম করবেন না। আপনাদের জন্য বাংলার বদনাম হবে। এরপরই মিমের নাম না করে মমতার বাণ-দালাল কিছু দল বিজেপির টাকায় চলে, কেউ হায়দরাবাদ থেকে উড়ে আসে। সংখ্যালঘুদের কানে এসে মন্ত্র দেয়, তোমাদের সাপোর্ট দেব। সংখ্যালঘুদের জন্য লড়ছি। সংখ্যালঘুদের জন্য লড়লে যখন পরিযায়ী শ্রমিকরা বাইরে মার খায়, তখন ঠোঁটে কি লিউকোপ্লাস্ট লাগিয়ে বসে থাকো? যখন এসআইআরে মানুষের নাম বাদ যায়, তখন কী করো?
এরপরেই মালদহের মাটিতে কংগ্রেসকে আক্রমণ শানান মমতা। বলেন, মালদহে কংগ্রেস ভোট এলেই ময়দানে নামে। লোকসভাতে তোমাদের দু’টো সিট। একটা বিজেপি, আর একটা কংগ্রেস ভাগাভাগি করে নেয়। আমাদের নেই। তা সত্ত্বেও কিন্তু মালদহের উন্নয়ন করি। মালদহে আজ নয়, চিরকাল আসি এবং আসব। পরিষ্কার মনে রাখবেন, এই বিজেপি আর তাদের দুই দালাল কংগ্রেস, সিপিএমকে ক্ষমা করবেন না।
এরপর জনতাকে মমতা মনে করিয়ে দেন, যদি আপনারা মনে করেন ভোট কাটাকাটি, ভাগাভাগি করবেন, আগামী দিনে আপনাদের ঠিকানা, আশ্রয়, ভাষা থাকবে না। মাছ, মাংসও খেতে পারবেন না। কোনো অধিকার থাকবে না। এটা মাথায় রাখবেন ভাল করে।
এরপরেই সভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে মমতার প্রশ্ন, আপনারা কী চান? সারা বছর কংগ্রেস ঘুমোবে, আর ভোটের সময় টাকা দিয়ে ভোট কিনবে! এই অভিজ্ঞতা আমার অনেক আছে। ২০১১ সাল থেকে দেখছি। ২০১৬ সালেও দেখেছি। নিল টাকা, কিন্তু ভোটে ফাঁকা। • নিজস্ব চিত্র।