সংবাদদাতা, লালবাগ: জেলার ২২টি বিধানসভা আসনের মধ্যে অন্যতম ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা পদ্মাপাড়ের লালগোলা। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে, স্বাধীনতার পর থেকে কংগ্রেসের দখলে থাকা লালগোলায় ২০২১ সালে ছন্দপতন ঘটে। গত বিধানসভা ভোটেই এই কেন্দ্রে প্রথমবার ঘাসফুল ফোটে। শাসকদলের মহম্মদ আলি বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী আবু হেনাকে প্রায় ৬১ হাজার ভোটে পরাজিত করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে পঞ্চায়েত ও লোকসভায় প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে জোট শাসকদলকে পিছনে ফেলে দিয়েছে এখানে। কাজেই ছাব্বিশের নির্বাচনী লড়াইয়ে লালগোলায় জয়ের ধারা বজায় রাখতে এবার নতুন মুখের উপরেই ভরসা রাখছে দল। এখানে তৃণমূল প্রার্থী করেছে বিশিষ্ট চিকিৎসক তথা তরুণ তুর্কী আব্দুল আজিককে। মঙ্গলবার প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই স্থানীয় নেতৃত্ব এবং কর্মী, সমর্থকরা মাঠে নেমে পড়েন। তৃণমূল প্রার্থী আব্দুল আজিজ বলেন, লালগোলার প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরেই স্থানীয় নেতৃত্ব এবং কর্মী, সমর্থকদের নিয়ে প্রচার শুরু করেছি। মানুষের থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। লালগোলা দ্বিতীয়বারের জন্য তৃণমূলকেজেতাবেন।
যদিও কংগ্রেসের লালগোলা ব্লক সভাপতি যদুরাম ঘোষ বলেন, ১৯৫২ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত কংগ্রেস লালগোলায় জিতে এসেছে। ২০২১ সালে এনআরসির জুজু দেখিয়ে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করে ভোট লুট করে তৃণমূল। ফলে আমাদের প্রার্থীর হার হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে লালগোলার মানুষ ভুল শুধরে নিয়েছেন। পঞ্চায়েত ও লোকসভায় কংগ্রেস ব্যাপক ভোটে লিড পায় এখান থেকে। আশা করি, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে লালগোলা আসনটি আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারব।
নশিপুর, পাইকপাড়া, দেওয়ানসরাই, বাহাদুরপুর, বিলবোরা কোপরা, লালগোলা, কালমেঘা, মানিকচক, রামচন্দ্রপুর, আয়েরমারি-কৃষ্ণপুর, যশইতলা ও কান্তনগর এই ১২টি অঞ্চল নিয়ে গঠিত লালগোলা বিধানসভা। একুশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী মহম্মদ আলির প্রাপ্ত ভোট ছিল ১,০৭,৮৬০ ও কংগ্রেসের আবু হেনা পেয়েছিলেন ৪৭,১৫৩টি ভোট। মহম্মদ আলি ৬০,৭০৭ ভোটে লালগোলায় জেতেন। স্বাধীনতার পর থেকে কংগ্রেসের দখলে থাকা পদ্মাপাড়ের লালগোলায় প্রথম ঘাসফুল ফোটে। কিন্তু দু’বছর বাদে ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের ভোট ব্যাংকে এখানে ধস নামে। ১২টি অঞ্চলের মধ্যে ৭টি জোটের দখলে যায়। লালগোলা পঞ্চায়েত সমিতিতেও জোট বোর্ড গঠন করে। এক বছর পর লোকসভা ভোটের সময়ও অপরিবর্তিত ছিল সেই ছবি। বরং জোট তাঁদের শক্তি বাড়িয়ে বিধানসভার ১২টি অঞ্চলের মধ্যে ৯টিতে এগিয়ে রয়েছে। একুশের ভোট পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের ভোট এখানে বেড়েছে সাড়ে ৩৫ হাজারের কিছু বেশি। তুলনায় তৃণমূলের ভোট কমেছে প্রায় ৪০ হাজার। দুই নির্বাচনে দলের এই ভরাডুবি জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে যথেষ্ট চিন্তায় রেখেছে।
জঙ্গিপুরের সাংসদ তথা তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলা সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, গত বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তীতে পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে আমরা লালগোলার মানুষের সমর্থন পাইনি। তবে স্থানীয় নেতৃত্ব ও কর্মীদের চেষ্টায় লালগোলার মানুষ ফের ফিরে এসেছেন। ছাব্বিশের নির্বাচনে লালগোলা আসনে আমাদের প্রার্থী রেকর্ড ভোটে জিতবেন।