• মুকুল-স্মৃতি তাড়া করছে বিজেপিকে, বহিরাগত প্রার্থীতে অ্যালার্জি কর্মীদের
    বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: একুশের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির বহিরাগত প্রার্থী মুকুল রায়। ক’মাস পরেই তাঁর ভোলবদল। ঘাসফুলে প্রত্যাবর্তন। পাঁচ বছর আগের সেই ‘রাজনৈতিক প্রতারণা’র স্মৃতি এখনও টাটকা কৃষ্ণনগরের বিজেপি নেতা-কর্মীদের মনে। তাই এবার আর বহিরাগত প্রার্থী চান না তাঁরা।  সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই এই নিয়ে পোস্ট করছেন। কেউ লিখছেন, বহিরাগত নয়, কৃষ্ণনগরের নাগরিককেই প্রার্থী চাই। কেই লিখছেন বহিরাগত প্রার্থী দিলে মানা হবে না। এদিকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর্ব শুরু হয়ে গেলেও হদিশ নেই কৃষ্ণনগর উত্তরে বিজেপি প্রার্থীর। তা নিয়েও ট্রোলিংয়ের শিকার হচ্ছে গেরুয়া শিবির। নেট নাগরিকরা পোস্ট করছেন, ‘এইমাত্র খবর পাওয়া গেল কৃষ্ণনগরে বিজেপি প্রার্থী দিচ্ছে না।’

    কৃষ্ণনগর উত্তরে এই বহিরাগত ইস্যুর মধ্যেই লিয়েন্ডার পেজকে নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। সম্প্রতি টেনিস তারকা বিজেপিতে যোগদান করেছেন। তাঁকে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করা হচে পারে বলে জল্পনা চলছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ সঞ্জীব স্যান্যালের নামও হাওয়ায় ভাসছে। তিনি আবার বর্তমানে হরিয়ানার বাসিন্দা। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালিখি শুরু করেছে। কেউ কটাক্ষ করে লিখছেন, ‘বিজেপি নাকি প্রার্থী খুঁজতে পথঘাট এক করে হরিয়ানার দিকে ছুটেছে।’ আবার অনেকে বিজেপির সম্ভাব্য বহিরাগত প্রার্থীদের ‘ভোট পাখি’ বলেও সম্বোধন করছেন। কটাক্ষ করে অনেকেই বলছেন, বিজেপির রাজনৈতিক দৈনদশা এতটাই তীব্র যে, বাইরে থেকে প্রার্থী আনা হচ্ছে। যদিও নদীয়া উত্তরে প্রার্থী বাছাইয়ে বিজেপির ‘বহিরাগত সখ্য’ নতুন নয়। 

    ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কল্যাণ চৌবেকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। পদ্ম শিবিরের নিচুতলার কর্মীরা মজা করে বলছিলেন, ফলাফল বেরোনোর দিন তৃণমূলের কাছে ভোটে হারার পর তিনি সেই যে গাড়ি নিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্য রওনা দিয়েছিলেন, তারপর আর নাকি কৃষ্ণনগরমুখী হননি। একুশের বিধানসভাতেও মুকুল রায়কে প্রার্থী করেছিল। কিন্তু, ভোটে জিতিয়েও পদ্ম শিবিরের নেতৃত্ব তাঁর থেকে বঞ্চিত হন। মুকুল রায়কে খুব বেশিদিন তাঁরা পাশে পাননি। তিনি ফের তৃণমূলে চলে আসেন। ছাব্বিশেও কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় বাইরে থেকে প্রার্থী আনার জল্পনা শুরু হতেই ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে বিজেপির অন্দরে। 

    কৃষ্ণনগর উত্তরে ২০১৯ সাল থেকে বিজেপির হাওয়া ওঠে। সেবার লোকসভা নির্বাচনে ৫৩ হাজার ভোটে এগিয়েছিল বিজেপি। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৩৫ হাজার ভোটে এই কেন্দ্রে জয়ী হয়‌। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও উনিশের ফলাফলের পুনরাবৃত্তি হয়েছিল। এদিকে, চতুর্থ দফার প্রার্থী ঘোষণা হলেও কৃষ্ণনগর উত্তর এখনও ব্রাত্য। অনেক বিজেপ কর্মী দলীয় নেতৃত্বের প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে গড়িমসিকে ভালোভাবে নিচ্ছেন না।‌ তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি লিখছেন, ‘কৃষ্ণনগরের‌ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগত প্রার্থীকে নির্বাচিত করে এসেছে।‌ তার ফলে একজন বিধায়কের যে পরিষেবা পাওয়া প্রয়োজন, সেখানে কৃষ্ণনগরবাসী সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত।’

    কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, ‘এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী কে হবেন, তা জানার জন্য মানুষের উৎসাহ অনেক বেশি। তাই এটা স্পষ্ট যে উত্তর কেন্দ্রে বিজেপির গড় ছাব্বিশেও অক্ষুন্ন থাকতে চলেছে। খুব শীঘ্রই প্রার্থীর নামও ঘোষণা হবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)