• নির্বাচনের বাজারে নকল মদের দৌরাত্ম্য বন্ধে আবগারি দপ্তরের অস্ত্র ‘টকিং পেন’
    বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ভোটের বাজারে নকল মদের দৌরাত্ম্য রুখতে ‘টকিং পেন’-এর ব্যবহার শুরু করল রাজ্য। জায়গায় জায়গায় চলছে নাকা চেকিং। পাকড়াও করা হচ্ছে বেআইনি মদের চোরাকারবারিদের। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে নকল লেবেল লাগানো মদের বোতল উদ্ধার হয়েছে। এই বোতলগুলি দেখতে একেবারে আসল মদের বোতলের মতো। মূলত ভিন রাজ্য থেকে এসব আনার পর বাংলায় কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এই ছক ভেস্তে দিতেই এবার আবগারি দপ্তর টকিং পেন ব্যবহার শুরু করেছে। এই পেন বোতলের লেবেলে থাকা হলোগ্রামে ঠেকালেই বোঝা যাোব, সেটি আসল না নকল। 

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় নকল মদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে ১১০০ টকিং পেন কিনেছে দপ্তর। বুধবার থেকেই এই টকিং পেনগুলি বিভিন্ন নাকা পয়েন্টে পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের প্রতিটি স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্টে নাকা চেকিংয়ের সময় এই যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে ক্রেতা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মদের দোকানের মালিককে এই যন্ত্র কেনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার সরকারিভাবে এই পেন কিনে নজরদারি বৃদ্ধির পদক্ষেপ করা হয়েছে। 

    কী এই টকিং পেন? প্রশাসনিক কর্তারা বলছেন, বোতলের গায়ে যে বিশেষ হলোগ্রাম থাকে সেটি নকল করা অসম্ভব। মদের বোতলটি নকল হলে হলোগ্রামটিও নকল হতে বাধ্য। ওই পেন দিয়ে স্ক্যান করলেই মদের বোতল আসল নাকি নকল, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। সেই কারণেই এর নামকরণ হয়েছে ‘টকিং পেন’। ভিন রাজ্য থেকে চোরাপথে কম দামে মদের সাপ্লাই জারি থাকলে রাজ্যের রাজস্ব ঘাটতির সম্ভাবনা তৈরি হবে। এই যন্ত্রের সাহায্যে তা অনেকটাই রুখে দেওয়া সম্ভব বলে মত প্রশাসনিক মহলের। সদ্য শেষ হওয়া অর্থবর্ষে রাজ্যে আবগারি থেকে রাজস্ব আদায় প্রায় ন’ শতাংশ বেড়েছে। যা ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে ছিল ১৯ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। 

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ থেকে ১ এপ্রিলের মধ্যে কালিম্পং, সিঙ্গুর, ডালখোলা সহ একাধিক জায়গায় প্রায় সাড়ে ১৮ লক্ষ লিটার চোরাই মদ ধরা পড়েছে। যার মূল্য প্রায় ৪৬ কোটি টাকা। এই যন্ত্র চালু হলে ভোটের আবহে বেআইনি মদ বিরোধী অভিযান আরও জোরদার হবে বলেই মত প্রশাসনিক মহলের।
  • Link to this news (বর্তমান)