মালদহের ঘটনা নিয়ে নিজেদের বদল করা অফিসারদেরই ধমক কমিশনের! পুনরাবৃত্তি হলে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি
বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বাচন ঘোষণার পর রাজ্য প্রশাসনে খোলনলচে বদলে দিয়েছে কমিশন। এবার নিজেদের বদলি করা অফিসারদের কাজ নিয়েই চরম অসন্তুষ্ট কমিশন। মালদহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নবনিযুক্ত ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
মালদহের ঘটনায় রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল এবং পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেখানে তিনি এই ঘটনায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন বলে খবর। জ্ঞানেশের ক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্য পুলিশের ডিজি মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিংহ। তাঁর প্রশ্ন, শুরুতেই কেন পদক্ষেপ করা হয়নি? মালদহ কাণ্ডে পুলিশ সুপার অনুপমকে পদক্ষেপ করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিল কমিশন। তারা জানিয়েছিল, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার মধ্যে মালদহের মানিকচকে ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে। একটা সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পরে যদিও এনআইএ’কে তদন্তভার দেওয়া হয়। য়। মালদহের পুলিশ সুপারের উদ্দেশে জ্ঞানেশ বৈঠকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে যাননি কেন?’ উত্তরে এসপি জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পাল্টা কমিশন জানায়, তা হলে তাঁকে এডিজি করে দেওয়া হচ্ছে। মালদহের জেলাশাসকে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ‘আপনাকে ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। বাসভবনে ছিলেন না! কোথায় ছিলেন?’ রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথকেও বার্তা দিয়েছে কমিশন। তাঁকে উদ্দেশ্য করে জ্ঞানেশ বলেছেন, ‘আপনি এত সিনিয়র অফিসার। আপনার কাছ থেকে এ সব আশা করা যায় না।’ এরপরই হুঁশিয়ারির সুরে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ফের এমন ঘটনা ঘটলে, এবার আর সাসপেন্ড অথবা বদলি নয়, অভিযুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ৩১১ ধারায় কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৩১১ ধারা প্রয়োগ করে সরাসরি চাকরি থেকে বরখাস্ত, কম্পালসরি ওয়েটিংয়ের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতর রাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয়।
মালদহের ঘটনা ছাড়াও সিইও অফিসের সামনে দু’দিন ধরে কেন গন্ডগোল চলছে? ভবানীপুরে কেন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছ? সেই প্রশ্নও তুলেছে কমিশন। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দাকে জ্ঞানেশ বলেন, ‘একজন আইপিএস অফিসার হয়ে কলকাতা সামলাতে পারছেন না! আপনাকে কি প্রশিক্ষণ দিতে হবে?’ অন্যদিকে, মালদহ-সহ চারটি ডিভিশনাল কমিশনারদের যে অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিল, তা থেকে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা শুধু ডিভিশনাল কমিশনার হিসাবেই কাজ করবেন। মালদহের ঘটনার প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।