দিশাহারা হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ছুটছেন নাম বাদ যাওয়া অসহায় ভোটাররা
বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: দিশাহারা হয়ে শেষে কাকদ্বীপ মহকুমা শাসকের শরণাপন্ন এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া ভোটাররা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তাঁরা মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে এসে ভিড় জমান। পরে ওই দপ্তরের আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেন। তাঁদের চোখেমুখে ছিল একরাশ প্রশ্ন। সামনেই রয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। এই ভোটে তাঁরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না, তা নিয়েই বিচলিত হয়ে উঠেছেন। অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম রয়েছে। তা সত্ত্বেও চক্রান্ত করে এবারের তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কয়েক হাজার ভোটার বিভিন্ন দপ্তরে এখন ছুটে বেড়াচ্ছেন।
এ বিষয়ে ৭০ বছরের এক বয়স্ক ভোটার শেখ জিয়াদ আলি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোট দিয়ে আসছি। কিন্তু কেন নাম বাদ দেওয়া হল, বুঝতে পারছি না। এখন বলা হচ্ছে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হবে। কিন্তু সেটা কীভাবে করব, জানা নেই। খুব সমস্যার মধ্যে পড়ে গিয়েছি।
কাকদ্বীপ বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী নাসিরুদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষকে অসহায় অবস্থার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। বিভিন্ন অজুহাতে বৈধ ভোটারদেরও নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে কী হবে? সাধারণ মানুষের মতো আমরাও বিভ্রান্তিতে রয়েছি। বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে।
এসইউসিআই প্রার্থী ঝন্টু মাইতি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি সরকার খুব অল্প সময়ের মধ্যে এসআইআরের কাজ সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। সেজন্যই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমাদের তাই মূল দাবি, এখানকার কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, নির্বাচনের আগে তাঁরা যেন বৈধ ভোটার হিসাবে চিহ্নিত হতে পারেন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
বিজেপি প্রার্থী দীপঙ্কর জানা বলেন, এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। তবে দল কোনোদিনই চায় না তালিকা থেকে বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাক। এক্ষেত্রে যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে বৈধ ভোটারদের নাম তোলার জন্য, আবার তাঁদের আবেদন করার অনুরোধ জানানো হবে। নিজস্ব চিত্র