কুন্তল পাল, বনগাঁ: ঝোলা পুরোপুরি শূন্য। ফলে ভোটের আগে মাধুকরী সংগ্রহে বেরতে হচ্ছে বাগদার ফরওয়ার্ড ব্লক প্রার্থী গৌর বিশ্বাসকে।
গৌর সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদন জানিয়েছেন, ‘নির্বাচনে নিদারুণ অর্থ সংকটের মধ্য দিয়ে অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই চলছে। আপনাদের সাহায্য, সমর্থন, আশীর্বাদ ও ভালোবাসা চাই।’ জানা গিয়েছে, ফরওয়ার্ড ব্লক এখনও ভোটে লড়ার টাকা পাঠায়নি বাগদায়। কবে পাঠাবে বা আদৌ পাঠাবে কি না তা জানা যাচ্ছে না। ফলে অর্থাভাবের ধাক্কা সরাসরি এসে পড়েছে ভোট প্রচারে। দেওয়াল লেখা থেকে পতাকা টাঙানো, ফ্লেক্স লাগানো থেকে মিটিং মিছিল সংগঠিত করা, কোনো কিছুরই টাকা নেই। তাই হাত পাতা ছাড়া গতি নেই গৌরবাবুদের।
প্রবল গরমে প্রচারে বেরিয়ে তেষ্টা পাচ্ছে কর্মীদের। জল কেনার টাকা নেই। এর তার পকেট হাতড়ে জলের বোতল কেনা হল। দেওয়াল দখল অনেক আগেই হয়েছিল। কিন্তু এখন লিখতে রং লাগবে। কেনার টাকা কোথায়? এক কর্মী টাকা দিলেন। কেনা হল দু’কৌটো রং। হল দেওয়াল লেখা। কিন্তু গোটা একটা বিধানসভা এলাকার এতগুলি দেওয়াল লিখতে প্রচুর রং লাগবে। অত টাকা কে দেবে? এক বামকর্মী বললেন, ‘হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বিজেপি। ওদের প্রচারের খরচ দেখলে চোখ ঝলসে যায়। অদ্ভুত দেশ আমাদের, এ জগতে হায় সেই বেশি পায় যার আছে ভুরি ভুরি, রাজার হস্ত সব ধন চুরি করে নেয়, বুঝলেন।’ উত্তর ২৪ পরগনায় ফরওয়ার্ড ব্লকের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমাদের আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। চা-বিস্কুট জোগাতেও হিমশিম। অন্যদিকে দেখছি বিরিয়ানি বিলি হচ্ছে হাজার হাজার।’
এই কেন্দ্র থেকে ফরওয়ার্ড ব্লকের হয়ে দাঁড়িয়ে পাঁচবার জিতেছিলেন গৌরের বাবা কমলাক্ষী বিশ্বাস। ২০২৪ সালে এখানে উপনির্বাচনে গৌরবাবু প্রথমবার প্রার্থী হন। সেবারও আর্থিক সংকট ছিল। তাই সেভাবে প্রচার করেননি। এবারও একই দশা। এবার আর্থিক সাহায্য চেয়ে ফেসবুকে নিজের পেজে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নম্বর দিয়েছেন। গৌরবাবু জানালেন, মানুষের সাড়া পেয়েছেন। প্রায় আট হাজার টাকা অনুদান এসেছে। সে টাকা দিয়ে প্রচারও শুরু করেছেন। কিন্তু লাগাতর প্রচার চালাতে এ অনুদান আর কতটুকু! তবে গৌরবাবুরা ভাবছেন, ‘মানুষ এভাবে সঙ্গে থাকুক।’ অন্যদিকে এ বিষয়টিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পরিতোষ সাহা বলেন, ‘বামফ্রন্ট ৩৫ বছর শাসন করেও কৌটো ঝাঁকিয়েছে।’ বিজেপি জেলা সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, ‘বামেরা তৃণমূলের বি টিম। এরা সাধারণের চোখ ফাঁকি দিতে অনেক কিছুই করে।’ আর গৌরবাবুদের বক্তব্য, ‘ভোটে জিততে মানুষের সাহায্য-সহযোগিতাই সব থেকে বড়ো অস্ত্র। আমরা ঠিক পথেই চলছি।’