অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: ‘সুজিত বসু পঞ্চমবার’ সল্টলেকের প্রতিটি পাড়া এখন এই ব্যানার-হোর্ডিংয়ে ছয়লাপ। পরপর চারবারের বিধায়ক সুজিত। পাঁচবারের জন্য বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের তিনিই প্রার্থী। তাঁকে জেতাতে ময়দানে নেমে পড়েছেন দলের নেতা-কর্মীরা। গত লোকসভা নির্বাচনে সল্টলেকের অন্তর্গত ১৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১০টি ওয়ার্ডে লিড পায়নি তৃণমূল। তাই এবার সল্টলেকে মার্জিন বৃদ্ধির টার্গেট নিয়েছে তৃণমূল। জনসংযোগ বাড়াতে ব্লকে ব্লকে বৈঠক হচ্ছে। সঙ্গে বাড়ি ঘুরে ঘুরে প্রচারেও জোর দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। এই কাজে মাঠে নেমে পড়েছেন দলের কাউন্সিলাররা। ভোট বাড়ানোর বিষয়টিকে প্রেস্টিজ ইস্যু করে সকলেই চাইছেন নিজের ওয়ার্ডে বেশি ভোটের লিড দিতে। অন্যদিকে গতবার বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিজেপি এবার বিধাননগরে জয়ের স্বপ্ন দেখছে। একইসঙ্গে জনসংযোগের মাধ্যমে নিজেদের ঘর গোছাচ্ছে সিপিএমও। তাই লড়াই এবার জমজমাট।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের লড়াই ছিল অন্যরকম। তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া সব্যসাচী দত্ত। সেই লড়াইয়ে সুজিত ৭ হাজার ৯৯৭ ভোটে জয়ী হন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলে সল্টলেকের ১৪টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮, ৩৫, ৩৬ এবং ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে লিড পেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৭, ৩৯, ৪০ এবং ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ছিল পিছিয়ে। তাই সল্টলেকের উপর তারা বাড়তি নজর দিয়েছে এবার। তৃণমূলের দাবি, লোকসভা নির্বাচন কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচিত করে। বিধানসভা নির্বাচনে ঠিক হয় রাজ্য সরকার। ২০১৯ সালে বিধাননগরে তৃণমূল পিছিয়ে থাকলেও ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে সুজিতবাবুই জয়ী হয়েছিলেন। তাই বিধানসভা নির্বাচন লোকসভার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সব্যসাচীবাবুও বিজেপি ছেড়ে এখন তৃণমূলে। তাই ঘাসফুলই বাড়ছে।
বিধাননগরের মেয়র পারিষদ (জল) তৃণমূল কংগ্রেসের তুলসি সিনহা রায় বলেন, সল্টলেকের মানুষ আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। বিধায়ক সল্টলেকের জন্য অনেক উন্নয়ন করেছেন। নতুন বেইলি ব্রিজ চালু করেছেন। সল্টলেকের মানুষ ভিআইপি রোডে উঠতে পারছেন আবার সল্টলেকে ঢুকতেও পারছেন। নতুন করে রাস্তা সংস্কারের অনুমোদন করিয়েছেন। সাধারণ মানুষের যে কোনও প্রয়োজনে বিধায়ককে ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যায়। সল্টলেক সহ গোটা বিধাননগরের মানুষের সমর্থন আমাদের দিকেই। তাই গতবারের চেয়ে এবার জয়ের মার্জিন অনেক বাড়বে। বিধাননগরের বিজেপি নেতা তথা দলের রাজ্য কমিটির সদস্য অনুপম ঘোষ বলেন, গতবার তৃণমূল ছেড়ে আসা নেতা বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। তাই গত বিধানসভা নির্বাচনে অনেকে তাঁকে ভোট দেননি। আমরা পরাজিত হয়েছিলাম। এবার আমাদের দলের পুরানো লোক প্রার্থী হয়েছেন। কোনও দল ছেড়ে তিনি আসেননি। গত লোকসভায় সল্টলেক ও দক্ষিণ দমদম উভয়দিকে আমরা ভালো ফল করেছিলাম। সল্টলেকের মানুষ বিচক্ষণ। আমরা মনে করি তাঁরা এবারও সুচিন্তিত মতামত দেবেন।