• এবার নজরে আবাসনের ‘ভোট ক্লাস্টার’
    বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাড়ায় পাড়ায় নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্ত, বস্তি বা কলোনি এলাকার ভোটারদের মধ্যে প্রচারকে বরাবর গুরুত্ব দেয় সব দল। উচ্চবিত্ত ভোটারদের প্রতি খুব একটা আগ্রহ থাকে না তাদের। কিন্তু এবার পরিস্থিতি অন্য। এসআইআরে বাদ গিয়েছে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম। স্বাভাবিকভাবেই এবারের নির্বাচনে প্রতিটি ভোটই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। সেক্ষেত্রে নজর হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের ভোট ক্লাস্টারে। রাজনৈতিক তথ্যভিজ্ঞ মহলের দাবি, মিশ্র ভাষাভাষীর শহরে বিভিন্ন বহুতল আবাসনে তৃণমূল মনোভাবাপন্ন ভোটারের সংখ্যা তুলনায় কম। বরং ওইসব টাওয়ারে অবাঙালিদের বাসই বেশি। তাঁদের বড়ো অংশই আবার ঝুঁকে রয়েছে গেরুয়া শিবিরের দিকে। তাই এবার জোড়াফুল শিবিরের বিশেষ নজর বহুতলে। মানিকতলা থেকে রাসবিহারী কিংবা ভবানীপুর থেকে যাদবপুর—সর্বত্রই বিভিন্ন বহুতলে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে আড্ডা মারছেন তৃণমূল প্রার্থীরা।

    দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী এলাকায় হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের সংখ্যা নজরে পড়ার মতো। বিশেষ করে ৮৭ নম্বর ওয়ার্ডের লেক এলাকা, সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ে বহু হাইরাইজ রয়েছে। এইসব বহুতলের প্রতিটি ফ্ল্যাটে ঢুঁ মারছেন এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমার। আড্ডার ছলে জনসংযোগই তাঁর লক্ষ্য। দেবাশিসবাবু বলেন, বস্তি-কলোনি এলাকা বা পাড়ায় পাড়ায় যাওয়ার পাশাপাশি বহুতলগুলিতেও যাচ্ছি। প্রত্যেকেই আমার ভোটার। শুধু ভোট নয়, বছরভর নানা অনুষ্ঠানে হাইরাইজ বিল্ডিংগুলিতে যেতে হয়। রাসবিহারীর ৮১, ৮৬ এবং ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডে একাধিক বহুতল রয়েছে। কোন আবাসনে কোন দিন যেতে হবে, তার তালিকা তৈরি হয়েছে।

    অন্যদিকে, মানিকতলা এলাকায় বহুতলগুলিতে ঘুরছেন তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডে। ৩১ এবং ৩২ নম্বর ওয়ার্ডেই সবথেকে বেশি বহুতল রয়েছে। এর মধ্যে ১৫-১৬ হাজারই অবাঙালি ভোটার। শ্রেয়া নিজে যেখানে থাকেন, ওই এলাকাতেও অবাঙালির প্রাধান্য। সর্বত্রই ঘুরে ঘুরে বৈঠক করছেন শ্রেয়া।

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরেও অবাঙালি ভোটারের সংখ্যা তুলনায় বেশি। তাঁদের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে বৈঠক করছেন স্থানীয় কাউন্সিলাররা। বৃহস্পতিবার সকালে আলিপুর হর্টিকালচার সোসাইটিতে মাড়োয়ারিদের সঙ্গে প্রাতর্ভ্রমণে অংশ নেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তৃণমূলের পর্যবেক্ষণ, বাঙালি অধ্যুষিত হাইরাইজ বিল্ডিংগুলিতে তুলনামূলক ভালো সাড়া মিলছে। এসআইআরের জেরে অনেকেই অতিষ্ঠ। তাঁদের বড়ো অংশই তৃণমূলের দিকে ঝুঁকে রয়েছেন। উত্তর কলকাতার এক তৃণমূল প্রার্থীর কথায়, অবাঙালি ভোটারদের মুখে খালি হিন্দুত্ব! যাঁরা বলছেন হিন্দুত্ব বিপদের মুখে, তাঁদের আমরা পালটা বলছি, আপনার নিজের অঞ্চলে তো নিশ্চিন্তে আছেন। তাহলে বিপদের প্রশ্ন উঠছে কেন? তখন তাঁরা চুপ হয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এবারের ভোটে সব ভোটারকেই টার্গেট করেছে তৃণমূল। একদিকে, যেমন জোর দেওয়া হচ্ছে নিম্ন-মধ্যবিত্তের ভোটের দিকে, তেমনই আবাসনের উচ্চবিত্ত ভোটারদের মধ্যেও ছাপ ফেলতে চেষ্টা চালাচ্ছে ঘাসফুল শিবির।
  • Link to this news (বর্তমান)