• সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে ৩০০ দলিল উদ্ধার, বাজেয়াপ্ত বিলাসবহুল গাড়িও
    বর্তমান | ০৩ এপ্রিল ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জোর করে জমি দখল করে নির্মাণ ব্যবসায় কালো টাকা খাটানোর মামলার তদন্তে নেমে ইডি দক্ষিণ কলকাতার ত্রাস বিশ্বজিত পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০টি দলিল উদ্ধার করেছে বলে খবর। অভিযোগ, জমির মালিকদের পিস্তলের নল ঠেকিয়ে জয়েন্ট ভেনচার প্রজেক্টে বাধ্য করেছিল পাপ্পু। সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের ডেকে বিষয়টি জানতে চাইবেন তদন্তকারীরা। সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে একটি বিলাসবহুল গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। তদন্তকারীরা বলছেন, অপরাধ থেকে অর্জিত টাকায় গাড়িটি কেনা হয়েছে। সোনা পাপ্পুর পারিবারিক দোকান থেকে গয়না কিনে কালো টাকা সাদা করা হয়েছে বলে জেনেছেন তাঁরা। একইসঙ্গে রিয়েল এস্টেট কোম্পানির অফিস ও বাড়ি মিলিয়ে উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ বেড়ে দাড়িয়েছে দু কোটি টাকা।

    সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশে তোলাবাজি, আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো সহ একাধিক ধারায় পাঁচ থেকে ছয়টি এফআইআর রয়েছে। তার কপি ইতিমধ্যেই আদালত থেকে সংগ্রহ করেছে এজেন্সি।  ইডি অফিসাররা জেনেছেন, সামান্য সোনার দোকান থেকে ব্যবসা শুরুর পর জমি বাড়ির প্রোমোটিং করতে গিয়ে বিপুল টাকা রোজগার শুরু করে পাপ্পু। নিজস্ব টিম বানিয়ে তাদের সকলকে আর্মস দেয়। এরজন্য বিহারের মুঙ্গের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসত পাপ্পু। কসবা, তিলজলা, পিকনিক গার্ডেন, যাদবপুর সহ বিস্তীর্ণ জায়গায় জোর করে জমি দখল শুরু করে। তার সঙ্গে পরিচয় হয় গড়িয়াহাট এলাকার অশ্বিনী দত্ত রোডের ওই রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিকের। পাপ্পুকে ব্যবসায়িক পার্টনার বানিয়ে ফেলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, পাপ্পু একের পর জমি  দখল করে সেখানে বহুতল তৈরি শুরু করে। জমির মালিকদের বাধ্য করা হতো বাড়ি বা ফাঁকা জমি তাকে দিতে। খাতায়কলমে জয়েন্ট ভেনচার প্রজেক্ট দেখানো হলেও মালিককে খুব সামান্যই ভাগ দেওয়া হতো। এরকম প্রায় ৩০০ দলিল উদ্ধার করেছে ইডি। এই বহুতল তৈরির জন্য নগদ বিভিন্ন জায়গা থেকে আসত রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিক ও পাপ্পুর কাছে। ইডি সূত্রে খবর, পাপ্পুর কাছে পুলিশ মহলের একাংশের কালো টাকা বিনিয়োগ করা রয়েছে। তার মোবাইল ঘেঁটে একাধিক পুলিশ অফিসারের নাম পাওয়া গিয়েছে। যাদের সঙ্গে পাপ্পুর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তদন্তকারীরা এও জেনেছেন, জমি দখল করতে অফিসারদের একাংশের মদত সে পাচ্ছিল। এমনকী পুলিশের একাংশ সহযোগিতা করায় আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সও বের করেছে পাপ্পু। একইসঙ্গে রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মালিকের সঙ্গে একাধিক পুলিশ কর্তা ও প্রভাবশালীদের যোগসূত্র মিলেছে বলে জানা যাচ্ছে। তাঁর বাড়িতে এতও টাকা কোথা থেকে এল, ইডি আধিকারিকরদের এই প্রশ্নের উত্তরে রিয়েল এস্টেট মালিক দাবি করেন, একাধিক সাইটের দৈনিক পেমেন্টের জন্য রাখা ছিল। কিন্তু সেই টাকা কোন ব্যাংক থেকে তোলা হয়েছিল, সে  সংক্রান্ত নথি তিনি দেখাতে পারেননি বলে খবর।
  • Link to this news (বর্তমান)