নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কাশীপুর এলাকায় গঙ্গার পাড় ভাঙছে। পরিস্থিতি সঙ্গিন। একাধিকবার সংস্কারের দাবি জানিয়ে কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি লেখা হয়েছিল। কিন্তু লাভ হয়নি। এই অভিযোগ জানালেন, কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অতীন ঘোষ। ভোট প্রচারে এই কেন্দ্রীয় বঞ্চনাকে অন্যতম ইস্যু হিসেবে তুলে ধরছেন তিনি। অন্যদিকে কাশীপুর রোডে বছরের পর বছর ধরে রয়েছে রেলের সিমেন্টের গুদাম। সিমেন্টের ধুলো থেকে দূষণ হয়। তার জেরে ওই পথ দিয়ে যাতায়াত কার্যত দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে সকলের। গোটা এলাকা থাকে ধুলোয় ভরে। এ বিষয়েও রেলকে পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়ে লাভ হয়নি বলে অভিযোগ অতীনের। অতীনবাবু বলেন, ‘এতদিন বলে কোনো লাভ হয়নি। আমাদের নির্বাচনি প্রচারের রিপোর্ট কার্ডে এই বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে। এবার বিধায়ক হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হব। যাতে রেল বাধ্য হয়ে পদক্ষেপ নেয়।’ এই বিভিন্ন ইস্যুর পাশাপাশি বিধায়ক হিসেবে নিজের পাঁচবছরের কাজের ফিরিস্তি প্রকাশ করেছেন অতীন ঘোষ। তাঁর বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত ছ’টি ওয়ার্ডে কোথায় কী উন্নয়ন হয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য দিয়ে বুকলেট তৈরি করে প্রচার করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পুরানো সতীর্থ। নর্থ সাবার্বান হাসপাতালটিকে মাল্টি ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে উন্নীতকরণ। ডায়ালিসিস সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই পরিষেবা চালু করা। দুর্ঘটনাগ্রস্ত রোগীর পরিষেবায় একটি আধুনিক ট্রমা কেয়ার ইউনিট। রাজা মণীন্দ্র রোডে অবস্থিত ইন্দিরা মাতৃসদন হাসপাতালে আধুনিক চিকিৎসার সুবিধা সহ প্রসূতি সদন কেন্দ্র চালু করা। জল নিকাশি ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে বীরপাড়া, দত্তবাগান ও আর কে ঘোষ রোড পাম্পিং ষ্টেশনগুলির আধুনিকীকরণ ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে দ্রুত জল নিকাশির ব্যবস্থা করা, টালা সেতুর নীচ থেকে সরকারি বাস পরিষেবা চালু করা সহ ১০টি উল্লেখযোগ্য কাজের বিবরণ প্রচারে তুলে ধরছেন অতীন। পাশাপাশি আগামী দিনে বিধায়ক হওয়ার পর গঙ্গা তীরবর্তী ঘাটের উন্নয়ন, ইংরেজি মাধ্যম উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সহ একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অন্যদিকে এদিন কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী দীপু দাস কসবা পোস্টঅফিস এলাকা থেকে বিকেলে প্রচার শুরু করেন। বালিগঞ্জের সিপিএম প্রার্থী আফরিন বেগম সকালে ৬০ নম্বর ওয়ার্ডের ওস্তাগর লেনে প্রচার করেন। বিকেলে যান ৬৯ নম্বর ওয়ার্ডে। অন্যদিকে টাকি বয়েজ স্কুলে প্রাক্তনীদের উদ্যোগে ছাত্র, অভিভাবকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্যশিবিরে যান বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ। ওই কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী পারমিতা রায় সকালে ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করেন। কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী ফৈয়জ আহমেদ খান ১৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচার করেন।